ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশি’ দাবি করে প্রতিদিনই পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রাখছে বিএসএফ। একতরফা এই পুশইনের নামে সীমান্তে চলছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইনের তোয়াক্কা করছে না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে— যার বেশিরভাগ অঞ্চলই কাঁটাতারের বেড়ায় নিবিষ্ট। এই দীর্ঘ সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্তে হত্যা এবং সাম্প্রতিক জোরপূর্বক পুশইনের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিবাদী ভুক্তভোগী নাগরিক এবং মানবাধিকার গবেষকরা এই পুশইন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির আলোকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ একটি সুস্পষ্ট ও উদ্বেগজনক হাতছানি বলে অভিহিত করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দুই দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দ্বিপক্ষীয় কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়া, রাতের আঁধারে বা সীমান্তের দুর্গম এলাকায় গোপনে ভারত রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে অবৈধ উপায়ে বা জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে দেওয়াকে ‘পুশইন’ এবং বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক ভারতে ঠেলে পাঠানোকে (যদিও বর্তমানে এরকম ঘটনা ঘটেনি) ‘পুশব্যাক’ নামে বলা হয়ে থাকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে, ভারত থেকে পুশব্যাক এবং বাংলাদেশে পুশইনের শিকার কতজন ব্যক্তি বা পরিবার হয়েছে— এ বিষয়ে নির্দিষ্ট চূড়ান্ত সংখ্যা বা সরকারি কিংবা বেসরকারি ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া কঠিন। এর মূল কারণ এ প্রক্রিয়াটি অধিকাংশ সময়ই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বা আনুষ্ঠানিক ভেরিফিকেশন ছাড়া অত্যন্ত গোপনে ও বিচারবহির্ভূত উপায়ে পরিচালনা করা হয়। কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম বা দ্বিপক্ষীয় আইনসম্মত যাচাই-বাছাই (যেমন আনুষ্ঠানিক ‘ডিপোর্টেশন’ প্রক্রিয়া) ছাড়া সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বা অবৈধভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল একটি সাধারণ সীমান্ত সংকট নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র।
# বিএসএফ-বিজিবি সম্মেলন শুরু
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। কয়েকটি সীমান্তে অনেকে এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্তের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল সোমবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্মেলন শুরু হয়েছে। এ সম্মেলনে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাইবে বাংলাদেশ। বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে। গত রবিবার ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে অবৈধ পুশইনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চলমান রয়েছে এবং আসন্ন বৈঠকেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিতভাবে একবার বাংলাদেশে এবং পরেরবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়।
# বৈঠকে যা আলোচনা হতে পারে
বিজিবি সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারীদের হাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা হবে। এ ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের বিষয় থাকছে।
এ ছাড়া চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তি, তিন বিঘা করিডর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী চারটি খালের বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য প্লান্ট স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয় এজেন্ডায় আছে।
এদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমান্ত-সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন বা হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধের বিষয়টি তোলা হবে। এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
# বন্দুক দেখিয়ে নারী-শিশুদের ঢোকাচ্ছে বিএসএফ
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিএসএফ ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে অনেক মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এই ঘটনায় এপিডিআর ১১ জুন মালদা শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল আহ্বান করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লিখেছিল, ক্ষমতায় এলে তারা ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’-এর (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) নীতি নেবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সেখানে পাঠানোর জন্য আটক কেন্দ্র চালু করেন। পাশাপাশি শুরু হয় বাংলাদেশে তাদের ভাষায় ‘পুশব্যাক’। এর জেরে অসংখ্য মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বলে রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এপিডিআর।
এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে মানবাধিকার সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে অনেক মানুষকে, বিশেষত নারী ও শিশুদের বিভিন্ন জেলার সীমান্তে নিয়ে গিয়ে জোর করে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তবে বিজিবি তাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এপিডিআর বলেছে, এর ফলে সীমান্তের বহু জায়গায় ‘নোম্যান্স ল্যান্ডে’ দিনের পর দিন এই মানুষরা পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু রয়েছেন। তারা খাবার ও পানি পাচ্ছেন না। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে এক ভয়ংকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে তারা। ভয়ংকর এক অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বিএসএফ ঠেলে নোম্যান্স ল্যান্ডে ঢুকিয়ে দিয়ে দায়িত্ব অস্বীকার করছে জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, ওরা ‘বাংলাদেশি’, তাই বিএসএফের কোনো দায়িত্ব থাকতে পারে না। অন্যদিকে বিজিবি বলছে, ওরা যে বাংলাদেশি তার কোনো প্রমাণ নেই। বিজিবির মতে, ওরা ‘ভারতীয়’। ফলে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। ফলে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বন্দুকের সামনে খাবার ও পানীয়হীন এক ভয়ংকর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে বেশ কিছু মানুষ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কয়েকটি জায়গায় এই অবস্থা বলে জানিয়ে এপিডিআর বলছে, আমরা মনে করি, ভারতের ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট (থ্রিডি) নীতিটাই অসাংবিধানিক, বেআইনি এবং সংবিধানবিরোধী। এই নীতিই বর্তমান সংকটের উৎস। রঞ্জিত শূর বলেন, জিরো পয়েন্টে বিএসএফের ফেলে আসা সব মানুষকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা চাই, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সৃষ্টিকারী পুশব্যাক নীতি অবিলম্বে বাতিল করুক ভারত সরকার। আমরা এই বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।
# জাতিসংঘ ও আইওএমের হস্তক্ষেপ আহ্বান
পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া নারী-শিশুসহ ১০ জনের ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অমানবিকভাবে আটকে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয় নিশ্চিতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং আইওএমের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম গত রবিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, আমি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ পুশইনের এই অমানবিক প্রবণতা বন্ধের জোর আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রতি অনুরোধ করছি, পরিচয় ও দায় নির্ধারণের প্রশ্ন মীমাংসার আগেই যেন এই মানুষগুলোর কাছে অবিলম্বে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি আশ্রয় ও চিকিৎসা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হয়।
# বিশ্লেষকরা যে পরামর্শ দিচ্ছেন
সীমান্তে অস্থিরতা উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর দাবি করে বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সংকট প্রকট হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার সমালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে অবৈধ বাংলাদেশি থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সীমান্ত সমস্যা সমাধানের দুই দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল হক বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তার দলের যে বাংলাদেশ-বিরোধিতা, সেখান থেকে তারা বের হতে পারেননি। সেটাকে উপজীব্য করেই তারা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করতে চাইছেন। কিন্তু এই যে তারা তথাকথিত অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি খুঁজে বের করেছেন, তাতে বাংলাদেশি থাকতেও পারেন, সেটা তদন্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃত অনেক পদ্ধতি আছে। ভারত সেটা করতে পারত। নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, সত্যিকার অর্থে কোনো বাংলাদেশি আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করে থাকলে তাদেরকে ফেরত নেব। কিন্তু সেটা প্রমাণ সাপেক্ষে হতে হবে। কিন্তু সীমান্তে পুশইন তো কারও জন্যই সুখকর হবে না।
# ১১ জেলার সীমান্তে আনসার মোতায়েন
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী ১১ জেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আশিকউজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সীমান্ত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ও নিরাপত্তাগত চাহিদার প্রেক্ষাপটে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়িতে উপজেলা, থানা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
# সীমান্ত থেকে ২১ জনকে ফিরিয়ে নিলো ভারত
অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২১ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল মধ্যরাতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে অবস্থান করা ১১ জন এবং পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা আরও ১০ জনকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়। এর আগে, গত ৫ জুন রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের পরিচয় যাচাই করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।
# মহেশপুর সীমান্ত
এদিকে ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দফায় দফায় পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) করানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। এছাড়া সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্য ও গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যৌথ টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









