হয় ঘুষ, না হয় বদলি। এই নীতিতে চলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের এমন ‘চাঁদাবাজিতে’ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ডিপিএইচইর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সরকার যেখানে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স, আউয়াল সেখানে চ্যাম্পিয়ন। ফলে ভেঙে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। এর আগে যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আউয়ালের ঘুষ-বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে, তখন সবখানেই নিজেকে ‘নিষ্পাপ’ দাবি করেছেন তিনি। এবারের এই কেলেঙ্কারির পর তাই আউয়ালের অধীনে থাকা সহকর্মীরাই আরেঠারে কানাঘুষা করছেন, আর কতখানি ঘুষ খেলে তাকে ‘ঘুষখোর’ বলা যাবে!
জানা গেছে, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন (এসি) আব্দুল আউয়াল। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে নেই তার কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা। ঢাকার পথঘাট অনেকটাই অচেনা হলেও হঠাৎ বনে যান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত চারজনকে ডিঙিয়ে হয়ে যান প্রধান প্রকৌশলী। এ যেন মেঘ না চাইতেই অঝোর বৃষ্টি।
চারদিকে প্রকল্প, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির ক্ষমতা, ঠিকাদারের কোটি কোটি টাকার বিল অনুমোদন, এপিপি, সিএস অনুমোদন, ফান্ড দেয়া, রাজস্ব বাজেট, কি নেই এখানে? চারদিকে শুধু টাকার হাতছানি। সার্কেলের এসি থাকা অবস্থায় যেখানে মাত্র হাজার টাকা কমিশনের জন্য ঠিকাদারদের কাছে ধরনা দিতে হতো, কিংবা মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখতে হতো। সেখানে একটু ভয় দেখালেই লাখ লাখ টাকা নিয়ে ছুটে আসেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর ভয়ে যদি কাজ না হয় তাহলে বিকল্প (বদলি) ব্যবস্থা তো আছেই। ঠিক এভাবেই চাঁদাবাজি, বদলি-বাণিজ্য, প্রমোশনের প্রলোভন, ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেখিয়ে গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহর মোবাইল নম্বর থেকে বিদেশে থাকা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে ঘষু লেনদেনের কথোপকথনের স্ক্রিনশর্ট এসেছে ‘দৈনিক এদিনের’ হাতে। সেখানে আব্দুল আউয়ালের চাঁদাবাজির ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে দেখা যায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে নাসরুল্লাহ বলছেন, ‘স্যার, আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন’?
এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ওয়ালাইকুম সালাম ভালো’ ‘তোমাকে বললাম পাঁচক্রোর (পাঁচ কোটি) সেন্ড করো দুই-একের মধ্যে কি করলা? তখন নাসরুল্লাহ ওই ব্যক্তিকে বলেন, ‘স্যার সরি দেশে আমি অনেক ঝামেলায় আছি’ আমাকে সাসপেন্ড করার জন্য অনেকে পেছনে লেগেছে। এর মধ্যে চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে (আব্দুল আউয়াল) তিনক্রোর (তিন কোটি) দেয়া লাগছে। দুদককে বড় একটা পেমেন্ট করা লেগেছে, নিউজ থামানোর জন্য অনেক পেমেন্ট করতে হইছে, কামাল ভাইকে সব বলছি উনি সব জানে।’
প্রশ্ন উঠেছে কি কারণে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালকে তিন কোটি টাকা দিলেন নাসরুল্লাহ? আর এমন কতজনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী। এসব অনুসন্ধান করে ঘুষ নেয়ার একাধিক অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেছে আউয়ালের বিরুদ্ধে।
নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছে চাঁদাবাজি
জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি, বদলি ও একাধিক জেলায় দায়িত্ব দিয়ে ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল। এর মধ্যে অন্যতম হলো- কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, অনিয়ম, দুর্নীতি, দুদকে মামলা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের ক্যাশিয়ার হওয়ার অভিযোগে নাসরুল্লাহকে কক্সবাজার থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে নাসরুল্লাহর বদলি ঠেকাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান প্রধান প্রকৌশলী।
নাসরুল্লাহ’র হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে জানা যায়, নাসরুল্লাহ’র বদলি ঠেকাতে তার কাছ থেকে প্রথম দফায় তিন কোটি এবং মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করার জন্য ধাপে ধাপে আরো চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় আউয়াল। গুঞ্জন আছে প্রতিমাসে প্রধান প্রকৌশলীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বদলির মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছে নাসরুল্লাহ। শুধু তাই নয়, আব্দুল আউয়াল দায়িত্ব নেয়ার পর ডিপিএইচইর ইতিহাসে সব থেকে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটে নোয়াখালী জেলায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলী আউয়ালের নির্দেশে ড্যানিডা প্রকল্পের ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পাইপ ও মূল্যবান মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন নোয়াখালী জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের রোষানলে পড়ে সাইফুল ইসলাম। সাইফুলকে রক্ষা করতে এবারও ঢাল হয়ে দাঁড়ান আউয়াল। তবে সেটি কোনো মানবিকতার কারণে নয় বরং ৭০ লাখ টাকার বিনিময়ে সাইফুলের পাশে দাঁড়ান আউয়াল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার পর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল আউয়ালের মোবাইল লোকেশন একই জায়গায় দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটার দিকে মহাখালীর অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সাইফুল ইসলাম। সাদা কাপড়ের ব্যাগে থাকা সেই টাকা আউয়ালের পাঠানো এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন সাইফুল। এরপর টাকা দেয়ার খবর নিশ্চিত করতে আউয়ালের মোবাইল নাম্বারে ফের যোগাযোগ করেন সাইফুল। এরপর টাকা পাওয়ার পর সেদিনই প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে সাইফুলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে নোয়াখালী থেকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। যদিও এই টেন্ডার করার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুলকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আবদুল আউয়াল।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আজগর বলেন, ‘দুই কোটি টাকার ভিতরে যে টেন্ডারগুলো হয় সেগুলো আমরা সার্কেল থেকে করতাম’ আর দুই কোটি টাকার ওপর টেন্ডার করতে হলে প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি নিতে হয়। নোয়াখালীর ওই টেন্ডার করার সময় প্রধান প্রকৌশলী অনুমতি নিয়ে করা হয়েছিল। তিনি আমাকে ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুলকে টেন্ডার করার জন্য বলেছিলেন।
অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পিডিপি-৪ প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর সুমিত মদক একজন ঠিকাদারের টাকা নিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর ড্রাইভারকে খোঁজা শুরু করে। ওই ভিডিওতে সুমিতকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধান প্রকৌশলী আসছে? ‘এটা স্যারের ড্রাইভারের কাছে দাও।’...
আউয়ালের চাঁদাবাজি এখানেই শেষ নয়। নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি, ভালো জেলায় পোস্টিং ও একাধিক জেলার দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আউয়াল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাসকে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে নোয়াখালী জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছেন আউয়াল। এ ছাড়া বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-কে ভালো জেলায় পোস্টিং দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকেও মোটা অংকের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আউয়ালের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া গাজীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মশিউর রহমানকে টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। ৮ এপ্রিল এক অফিস আদেশে মশিউর রহমানকে ‘গ্রামীণ স্যানিটেশন’ প্রকল্পের উপ-পরিচালক (ডিপিডি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রকল্পের পরিচালক তবিবুর রহমানকে কৌশলে সাময়িক বরখাস্ত করিয়ে মশিউরের মাধ্যমে প্রকল্পটি নিজের আয়ত্তে নেয়ার নীলনকশা করেন আউয়াল।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক, একাধিক জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জানায়, ডিপিডির দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফোন করে দ্রুত ‘গ্রামীণ স্যানিটেশন’ প্রকল্পের ‘সিএস’ পাঠাতে বলেন মশিউর রহমান। উদ্দেশ্য ছিল সিএস পাসের মধ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া। কিন্তু বরখাস্তের ১২ দিনের মাথায় তবিবুর রহমান স্বপদে ফিরে এলে আউয়াল ও মশিউর সিন্ডিকেটের এ পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে গত ৫ মে আর একটি অফিস আদেশে মশিউরকে ডিজাউন শাখায় সরিয়ে নেয় আব্দুল আউয়াল। যেখানে একাধিক কর্মকর্তা ভবনে সংযুক্তি থেকে বসে বসে সরকারের বেতন-ভাতা নিচ্ছেন, সেখানে মশিউরকে একাধিক দায়িত্ব দেয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক অফিসার বসে বসে বেতন নিচ্ছে, বসায় জায়গা পাচ্ছে না, সেখানে প্রধান প্রকৌশলী তার অনিয়মের সঙ্গীদের একাধিক পদে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। ডিজাইন শাখায় মশিউর রহমানের কোনো কাজ নেই শুধু ঢাকায় থাকতেই তার এই পোস্টিং। এখানে বসে সে গাজীপুরে টেন্ডার করছে আর কমিশন নিয়ন্ত্রণ করছেন। মানিকগঞ্জ জেলায় এক নির্বাহী প্রকৌশলী বদলির জন্য মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেছিলেন আব্দুল আউয়াল। অর্থের পরিমাণ আকাশচুম্বী হওয়ায় ওই প্রকৌশলী আর বদলি হতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালকদের কাছে চাঁদাবাজি
শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাছেই চাঁদাবাজি নয়। আউয়ালের চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না প্রকল্প পরিচালকরাও। কাজের সিএস পাসের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের কাছে এক পার্সেন্ট টাকা দাবি করেন আব্দুল আউয়াল। কমিশন না পেলে ‘এনুয়াল প্রকিউরমেন্ট প্লান’ বা এপিপি আটকে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আউয়ালের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রকল্প পরিচালক বলেন, আমার প্রকল্পের সিএস পাস করলে সেখান থেকে এক পার্সেন্ট টাকা দাবি করেন প্রধান প্রকৌশলী। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান প্রকৌশলী আমাকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি অনেক জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও আমাদের নাম ধরে ডাকে। ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেখায় না। তার আচরণে আমরা বিব্রত। এ অবস্থায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল দুর্নীতির অভিযোগে ‘গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্প’ ও ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এসময় গুঞ্জন ওঠে, এই বরখাস্তের পেছনেও কলকাঠি নেড়েছে প্রধান প্রকৌশলী। এরপর সত্যতা প্রমাণ করে গত ২২ এপ্রিল আবারও স্বপদে ফেরেন তবিবুর। তবে এর মধ্যে নানা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন আউয়াল। এই কয়দিনের ব্যবধানে নিজের সিন্ডিকেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউরকে প্রকল্পের ডিপিডি নিয়োগ দেন। সেই সঙ্গে প্রকল্পের পাসওয়ার্ডও নিজের দখলে নিয়ে নেন আউয়াল। বরখাস্তের আগে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্প থেকে ২৫৬টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তবিবুর। সেই টেন্ডারের এপিপি এখন পর্যন্ত আটকে রেখেছে প্রধান প্রকৌশলী। আর এতে বিপাকে পড়েছে তবিবুর। সঠিক সময় সরকারের এই কাজ শেষ হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বেও একাধিক প্রকল্প পরিচালক তার কর্মকাণ্ডে বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
শুধু চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্যই নয়, বদলি বাণিজ্যও পিছিয়ে নেই আউয়াল। প্রতিষ্ঠানটির মেকানিক থেকে শুরু করে নির্বাহী প্রকৌশলী সব বদলিতেই ঘুষ নেন প্রধান প্রকৌশলী আউয়াল। আর তার এই প্রতিটি ঘুষ বাণিজ্য ডিল করার জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও নিজের পছন্দের কর্মকর্তা-কর্মচারী। বড় ঘুষের লেনদেন করেন ডিপিএইচইর মহাখালী ল্যাব সেন্টারে বসে। আর ছোট ঘুষ লেনদেনের মধ্যে রাজস্ব খাতের ছোট ঠিকাদারদের কাজের কমিশন ডিল করেন সহকারী প্রকৌশলী মো.কাবিল হোসেন এবং মেকানিকসহ ছোট বদলির ঘুষ ডিল করেন প্রধান সহকারী আবু তাহের মোল্লা। এভাবেই বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির এক মহা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল ধরেননি। এরপর খুদে বার্তা দিলেও সারা পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









