ফল অনুমিতই ছিল, ঘটেছেও তাই; ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির এই প্রার্থী। তার প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে ৭৮ বছর বয়সী ফখরুলের আর কোনো বাধা রইল না। জয়ের পর সংসদে বিপুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। নির্বাচনী কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের ফল ঘোষণা করেন।
ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পর্যায়ক্রমে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
বঙ্গভবনের দরবার হলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সাদা মনের মানুষ। তাঁর মতন সাদা মনের মানুষ সাদা রঙের বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়াটা গর্বের। তারা বলছেন, দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সাদা মনের পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে প্রায় ৬ মাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু দুর্নীতি-অনিয়ম কিংবা স্বজনপ্রীতি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। এর আগে ২০০১-২০-৬ সাল পর্যন্ত কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন,তখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বর্তমান সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ফলাফলে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ও অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান। বিকেল পাঁচটায় সিইসি ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে গণনা শুরুর ঘোষণা দেন। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা চলার সময় সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসনে বসে তা দেখছিলেন।
এ সময় টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গণনা পর্যবেক্ষণ করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন হুইপ। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য মুদ্রিত ব্যালট ছিল ৩৪৯টি। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালট ব্যবহৃত হয়েছে। বৈধ ব্যালট ৩৪৩। অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যা ৬টি। অলি আহমদ ৮৮ ভোট আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট।
এরপর তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার সময় মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর পাশে নিজের চেয়ারে বসেছিলেন। তাঁকে বিজয়ী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাতের ইশারায় সালাম দেন। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে যান ও করমর্দন করেন। এ সময় মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের পর সবাইকে সালাম দেন মির্জা ফখরুল।
এরপর মির্জা ফখরুল নিজের চেয়ার থেকে উঠে সামনে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কোলাকুলি করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম খান। এরপর মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। পরে পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন। এর প্রায় চার সপ্তাহ পর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সাড়ে তিন দশকের মাথায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী ছিলেন। ফলে ভোট আয়োজন করতে হয় আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি। প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পরেই এটা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিবই বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। কারণ দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দুপুর ২টায় ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোটদান শুরু হয়। প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তাদের পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। তার পরে ভোট দেন মির্জা ফখরুল।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ভোট দেন ২টা ১৯ মিনিটে। এরপর দলের অন্য সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ভোট দেন। ব্যালট পেপার জমা দিতে রাখা হয় তিনটা বাক্স। ভোটগ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফল ঘোষণার পর সংসদে বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে একটি গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ নির্বাচনের শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
তৃণমূল থেকে বঙ্গভবনে
বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল উঠে আসেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দমন-পীড়নের মধ্যে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের কান্ডারি। গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তিনি ‘মহামান্য’ হয়ে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা থেকে চার দশক আগে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা। ‘সজ্জন রাজনীতিক’হিসেবেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাম ধারার রাজনীতিতে নাম লেখান অর্থনীতির এই ছাত্র।
তিনি ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন।
রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষাকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।
বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে
মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা ছিলেন আইনজীবী। তিনি দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য। বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন।
মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটির আগ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। রাজনীতির এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর পট পরিবর্তন পরবর্তী প্রতিকূলতা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিকেও অসীম ধৈর্যে সংগ্রামে অটল রেখেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বহু মামলা লড়ার পাশাপাশি তাকে তিন দফা কারাগারেও যেতে হয়েছে। দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সংকটে হাল ধরে থাকা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে কার্যত দলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল।
সরকারে এলেন যেভাবে
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









