সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য রাজনীতির মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ভোটে কারচুপি হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং সরকার পতনের ডাক দেয়ার হুমকি দিচ্ছে বিরোধী দল। এ ছাড়া সংসদের বিতর্ক ছাপিয়ে সরকার ও প্রধান বিরোধী জোটের বিরোধ এখন রাজপথেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দখল-চাঁদাবাজি এবং মাঠপর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। সব মিলিয়ে সরকারের আট মাসের মাথায় ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সম্পর্কের টানাপড়েন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার ও বিরোধী জোটের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের ফল এবং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি। সংসদে এ নিয়ে মতপার্থক্যের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি জোরদার করছে বিরোধী জোট। অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও বিভিন্ন বক্তব্যে বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। কখনো কখনো এসব বক্তব্যে কটাক্ষও থাকছে। সম্প্রতি ফেনীর ফুলগাজীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে দুই পক্ষের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
উপনির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা সরকারকে হুঁশিয়ারি
গতকাল শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১-দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, টে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপি করা হলে ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাচন অফিস পর্যন্ত ঘেরাও করা হবে। কোনো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অনিয়ম করলে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এ ছাড়া নির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা। প্রয়োজনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিএনপিকে সতর্ক করে তারা বলেছে, মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির কী পরিণতি হয়েছিল স্মরণে রাখুন। আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাগুরার উপনির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়। এ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। বিরোধী দল ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার উপনির্বাচনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
বিরোধ বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্য
গত ২০ অক্টোবর বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ গত ১ আগস্ট ফেনীর ফুলগাজীতে এক সমাবেশে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা ‘স্বৈরাচার’ পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পরে কী দেখলাম? এই ‘গুপ্তবাহিনীর‘ লোকজন বলল যে, তারা (পতিত স্বৈরাচার) যদি আসে, থাকে, কাজ করে, রাজনীতি করে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি থাকবে কেমন করে? বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল; তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্য তাদের গুপ্ত বলা হয়। আজ আবার তারা এবং ওরা, যারা পালিয়ে গেছে, এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত, আবার একসঙ্গে হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, যারা স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশের দায়িত্ব পায়, তাহলে তারা আর যাই করুক, জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি জনগণের জন্য তাদের কোনো কর্মসূচি থাকত, তাহলে তারা বলতে পারত যে, কী কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে? আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয়— এমন কোনো কর্মসূচির কথা তারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। অন্যদিকে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার বিরোধীদলের সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য নয়। আজ থেকে সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধীদল।
গণভোটের রায় নিয়ে মূল বিরোধ
সরকার ও বিরোধী জোটের বিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করাই ছিল এই পরিষদের মূল কাজ। জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি জোট ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের অবস্থান, সংবিধানে এমন পরিষদের অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির বক্তব্য, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় এবং জুলাই জাতীয় সনদে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবকে ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গণভোট আয়োজনের জন্য যে অধ্যাদেশের ভিত্তিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস না হওয়ায় বাতিল হয়ে গেছে। বিএনপি সরকার জুলাই জাতীয় সনদ ও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে ওই কমিটিতে যোগ দেয়নি জামায়াত-এনসিপি জোট। এখানেই বিরোধটি শুধু সংস্কারের বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েও দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি গণভোটের রায়কে সংস্কার কার্যক্রমের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখতে চায়। অন্যদিকে সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে চাইছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কারবিষয়ক বিশেষ কমিটির ইতোমধ্যে চারটি সভা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ না থাকায় রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তার মতে, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।
রাজপথে চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী জোট
সংসদে মতপার্থক্যের পাশাপাশি রাজপথেও নিজেদের অবস্থান জোরালো করছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরগুলোর উদ্দেশে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে জোটটি। ওই কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। জোটের নেতারা কর্মসূচিকে সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করতে চাননি। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের তখন বলেছিলেন, এটি সরকার পতনের আন্দোলন নয়, বরং সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’। তবে ধারাবাহিক কর্মসূচির বিস্তৃতি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াত ও এনসিপি পৃথক কর্মসূচিও পালন করেছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে তাদের আন্দোলন যে কোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান দাবিদাওয়ার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না জোটটি।
রাতের আঁধারে হাসপাতাল গুঁড়িয়ে বিতর্ক তুঙ্গে
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম সামনে আসে। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। যার প্রেক্ষিতে এই সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। পদ খোয়ান এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এ ছাড়া ঢাকা মহনগর বিএনপির উত্তরের কমিটি ও অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক ইউনিটের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের সংঘাত
জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যায়েও। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মিছিল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। এতে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধ তৃণমূলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত আগস্টে রাজধানীর পল্লবীতে বিহারি ক্যাম্পে মৃতদেহের গোসলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। একই মাসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। সেখানে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা দেখাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতাও যুক্ত হচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে কঠোরতা বাড়লে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় কোনো বিরোধও এ পরিস্থিতিতে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ঢাকা-১৫ আসন ঘিরেও টানাপড়েন
সরকার ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্বের সাম্প্রতিক দৃশ্যমান ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে। এই আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কয়েক দিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানিয়েই মিরপুর এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করা হলে বিষয়টি আরো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনাটি সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক অভিযান হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত আমিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয় না থাকার বিষয়টি দুই পক্ষের সম্পর্কের টানাপড়েনের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা জামায়াতের
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, তাদের চলমান আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। জনগণের মৌলিক অধিকার, জানমালের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে গৃহীত জুলাই সনদ, আদেশ ও গণভোটের ফল সরকার উপেক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এর মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ও আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









