ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শিক্ষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হাম টিকার অর্থ আত্মসাৎ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি, কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অভিযোগে দলীয় নিয়োগ বন্ধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ বাতিল করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নেতৃত্ব দেন।
এ বিষয়ে আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সেই চেতনা ধারণ করেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৬ দফা মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বাধীনতার পক্ষের শিক্ষকরা হামলা-মামলার শিকার হয়ে শিক্ষা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নারী ও শিশু নির্যাতন, অনলাইন হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তিনি সেগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং কোটা আন্দোলনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’’
এ ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “আজকের ঘটনার বিষয়ে আমি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতায় এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থাকেও অবহিত করেছি, যাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত ভিডিওতে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা দেখা যাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা গেলে এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এর আগে ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পোস্টারগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি ব্যবহার করা হয়।
পোস্টারগুলোতে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে’ এবং ‘রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’— এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সংগঠনটির প্রকাশ্য কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের উপস্থিতির ঘটনা সামনে আসছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









