ফেলোশিপের আর্থিক জটিলতা ও প্রশাসনিক অস্পষ্টতার কারণে হতাশা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ফেলোশিপের মাসিক টাকার পরিমাণ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, ফেলোশিপ একসেপ্টেন্স লেটারে মাসিক ভাতা উল্লেখ না থাকা এবং গবেষণা কার্যক্রম শুরুতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও হতাশা।
রিসার্চ সেল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫(জুলাই-ডিসেম্বর) শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে নোবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো পিএইচডি ফেলোশিপ কার্যক্রম চালু হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিভাগ ফেলোশিপ কার্যক্রমে যুক্ত হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ফেলোশিপ পাওয়া ২০২৫-২৬ (জুলাই-ডিসেম্বর) শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য গবেষকদের জন্য মাসিক ৪০ হাজার টাকা বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও সম্প্রতি প্রশাসনের জারি করা এক অফিস আদেশে সেই ভাতা ২৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। এতে গবেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের ৫৮তম সভার সুপারিশক্রমে, একাডেমিক কাউন্সিলের ৭০তম সভা এবং সিন্ডিকেটের ৯৮তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউজিসি প্রদত্ত বাজেট অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ব্যাচভিত্তিক নির্দিষ্ট সংখ্যক ফেলোশিপ প্রদান করা হবে এবং নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে পিএইচডি গবেষকেরা। স্মারকলিপিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ফেলোশিপ বহাল রাখা, চলমান ভাতা সংকট দ্রুত নিরসন এবং ভবিষ্যতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
গবেষকদের অভিযোগ, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তাদের দেওয়া Fellowship Acceptance Letter-এ ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভর্তি-পরবর্তী সময়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের Acceptance Letter-এ ফেলোশিপের পরিমাণ উল্লেখ থাকলেও বর্তমান ব্যাচের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ জানিয়ে ২০২৫-২৬ (জুলাই-ডিসেম্বর) সেশনের এক পিএইচডি ফেলো বলেন, “আমরা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার টাকা ফেলোশিপের বিষয়টি দেখেই আবেদন করেছি। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর একসেপটেন্স লেটারে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় আমরা এখন অনিশ্চয়তায় আছি। দীর্ঘ সময় পার হলেও গবেষণা কার্যক্রমও শুরু হয়নি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০২৫-২৬ (জুলাই-ডিসেম্বর) সেশনে পিএইচডিতে ভর্তি হওয়া আরেক পিএইচডি ফেলো বলেন, “নয় মাস আগে বিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপ দেখেই আবেদন করি। ভর্তির চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফেলোশিপের চূড়ান্ত পরিমাণ নিশ্চিত হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার দিবে। বিষয়টা নিয়ে আমরা পিএইচডি ফেলোরা চরম হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। তাছাড়া বিজ্ঞপ্তি ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপ দিল আর লেটারে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই! এই ধরনের অসংগতি হলে স্ব-স্ব নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ থেকে ছুটি নিতেও অসুবিধে হবে আমাদের! তাছাড়া সবকিছুতে জটিলতা তৈরি হবে! আশা করি প্রশাসন এই ধরনের অসংগতিপূর্ণ এবং জটিলতা দ্রুত সমাধান করে পিএইচডি ফেলোদের হতাশা দূর করবে।”
এই বিষয়ে পিএইচডি রিসার্চ ফেলোশিপ কমিটির আহ্বায়ক ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, অ্যাডভান্স স্টাডিস বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদনের পর ২৫ হাজার টাকার পিএইচডি ফেলোশিপের সিদ্ধান্ত নোটিশ আকারে আসে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রিসার্চ সেল ও ফেলোশিপ কমিটির যৌথ মিটিংয়ে ৪০ হাজার টাকা বহাল রাখার সুপারিশ করে প্রশাসনের কাছে ফাইল নোট পাঠানো হয়, তবে উপাচার্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কমিটির ওপর ছেড়ে দেন। রিসার্চ সেলের অবস্থান হলো, যেহেতু শিক্ষার্থীরা ৪০ হাজার টাকা ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তা বহাল থাকা উচিত,প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে সেটা কার্যকর করা হবে। আর নতুনদের জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে সেটি আলাদাভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।
এছাড়াও ফেলোশিপের একসেপ্টেন্স লেটারে মাসিক ভাতা উল্লেখ না থাকায় প্রশাসনিকভবে তা স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পিএইচডি কার্যক্রম ও ফেলোশিপের আর্থিক জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “পিএইচডি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইউজিসি থেকে যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য গবেষকদের নির্দিষ্ট ফেলোশিপ দেওয়া হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর আগে পিএইচডি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









