শরীয়তপুরের জাজিরায় আত্মীয়ের খোঁজ নিতে থানায় গিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে আটক করে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম তুলন মাদবর। তিনি জাজিরার লাউখোলা আইজদ্দিন সরদার উচ্চ বিদ্যালয়ের চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের জাজিরা মতিসাগর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শাকিল (২০), রিফাত মোল্যা (২০), লিয়াকত খান (২১), নাহিদ হাসান (২২), সাব্বির সরদার (২৪) ও আতাহার সরদার (২৬) নামে ৬ তরুণকে আটক করা হয়। পরে শনিবার সকালে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে আটক ৬ জনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।
তুলন মাদবরের পরিবার জানায়,গত ২৪ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় আটক হওয়া এক আত্মীয়ের খোঁজ নিতে আরেক আত্মীয় জয় শেখকে সঙ্গে নিয়ে জাজিরা থানায় যান তুলন। অভিযোগ রয়েছে, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাদের দুজনকেই আটক করে। পরে মামলার এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তুলনের বাবা চুন্নু মাদবর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সে শুধু আত্মীয়ের খোঁজ নিতে থানায় গিয়েছিল। আমরা পুলিশের কাছে তার পরীক্ষার কাগজপত্র দেখিয়েছি, কিন্তু তারা কিছুই শুনেনি। এখন ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
লাউখোলা আইজদ্দিন সরদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “তুলন আমাদের বিদ্যালয়ের চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার আরও কয়েকটি ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে। একজন পরীক্ষার্থীকে এভাবে আটক করায় তার শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল।”
আটক হওয়া সকল তরুণদের স্বজনদের অভিযোগ, অধিকাংশই বিভিন্ন পেশার শ্রমিক। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাদের আটক করে পরে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তদন্তে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাদেরও আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









