কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কুষ্টিয়ার ভাদালিয়া থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা সড়কটির সংস্কার কাজে গতি এসেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীসহ ঈদে ঘরমুখো মানুষের মাঝে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে এই রুটে যানবাহন চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক এবং ছোট ছোট যানবাহনগুলোকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। তবে সম্প্রতি সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তির আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
সড়কের বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতেন চালকরা। ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ির পার্টস ভেঙে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো তাদের।
ট্রাক চালক মো. রহিম আলী বলেন, “রাস্তা ভাঙা থাকলে তো অনেক ক্ষতি। ডিফারেন্সিয়াল, এক্সেলে ক্ষতিসহ সবকিছুই। সব গাড়ির প্রচুর ড্যামারেজ আসে।”
সংস্কার কাজের ফলে গাড়ি চালানো এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে উল্লেখ করে বাস চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আগে রাস্তা যে পরিমাণে খারাপ ছিল, সেই তুলনামূলক এখন চলার মতন পরিবেশ করছে। আগের চাইতে আমরা এখন ভালো আছি, ভালো হবে। আশা করি রাস্তাটা আরেকটু মনোযোগ দিয়ে করার জন্য অনুরোধ করছি। রাস্তা ভালো হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাটা ভালো হবে, চলা ভালো হবে, গাড়ির ড্যামারেজ হবে না। যাত্রী সাধারণের সুবিধা হবে, অল্প সময়ে আমরা পৌঁছাতে পারব।”
বাসযাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবার নিয়ে ঈদে ফিরছি। সড়কের সংস্কার কাজ করায় সড়ক দিয়ে আসতে খুব ভালো লেগেছে। এর আগে এই সড়কে কর্মস্থলে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ভাঙ্গাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে কষ্ট পোহাতে হয়েছে। ঈদ সামনে করে সড়ক বিভাগ মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে এমন কাজটি করেছে, তাতে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।”
ইজিবাইক চালক মো. আমানুল্লাহ সড়কের বর্তমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এ সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে গেলে গাড়ির ড্যামারেজ হতো, যাত্রী উঠতে চাইতো না। এখন সড়কে কাজ হচ্ছে, এতে আমরা খুশি। আমাদের ড্যামারেজও কম এবং যাত্রীর সুবিধাও ভালো।”
স্থানীয় পান ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান ভাঙা রাস্তার কারণে তাদের ব্যবসার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “রাস্তা খারাপ ছিল, আমরা পান কিনতে পানের বাজারে যাই। এক বান্ডিল পান নিয়ে একটা গাড়িতে আসা যায় না। গাড়ি নষ্ট হয়ে যেত, পান নিয়ে খুব ঝামেলা, পান নষ্ট হয়ে যেত। এখন যদি রাস্তা ভালো হয়, তাহলে আমাদের পান নিয়ে আসতে অনেক ভালো হবে, পানও নষ্ট হবে না । আমরাও শান্তিতে আসতে পারব, দুর্ঘটনাটাও কম হবে রাস্তায়।”
ভাদালিয়া এলাকার স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হেলাল হোসেন বলেন, “ভাদালিয়া থেকে শুরু করে সাতমাইল পর্যন্ত ফুললি খারাপ ছিল। এই রোড দিয়ে যাওয়া যেত না, ভেতর থেকে যাওয়া-আসা করতাম আমরা। এখন রোড ক্লিয়ার হওয়াতে অনেকটাই ভালো।”
ভাদালিয়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান সড়কের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, “বর্তমানে এখন রোডের কাজ চলছে, এখন অনেকটাই হয়তো রোডটা ক্লিয়ার হলে অনেকটা মানুষের সুবিধা পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, এমন দীর্ঘতম বিশাল বড় একটা বাজার, বাজারেরও অনেক সুবিধা পাবে। লোকজনের অনেক সমস্যা ছিল, এখন সমাধান হয়ে যাচ্ছে।”
ধুলোবালির কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হতো, তা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা যখন ভাঙা ছিল, তখন ধোলাবালির জন্য অনেক সমস্যা হতো। মানুষের যাতায়াতের জন্য, দোকানপাটে বসা যেত না। আশপাশে বাড়িঘর যা আছে, এগুলোতে ধূলাবালি জমা হতো। এগুলো নিয়ে অনেক সমস্যা ছিল।”
প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “পিএমপির মেজরখাত বরাদ্দের কাজ চলছে। এটা ৯ কিলোমিটার কাজ চলছে, ভাদালিয়া থেকে আলামপুর পর্যন্ত। মাঝখানে একটু ভালো আছে। আবার এগারো মাইল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। এর ওয়ার্ক অর্ডার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা। আমরা আশা করছি ৩০ জুনের আগেই কাজটা শেষ হবে। রাস্তা খারাপ হওয়াতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছিল, খুব তাড়াতাড়িই আমরা ঠিকাদারকে নামাতে পারছি এবং উনি কাজ শুরু করছেন পজিটিভলি। অন্তত প্রায় চার কিলোমিটার কাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে। বাকি কাজটা আমরা রিপেয়ার করে রাখছি এবং ঠিকাদার রেগুলারলি রিপেয়ার করছে এবং কাজ চলমান আছে।”
সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান সংস্কার কাজের আওতায় কার্পেটিং এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ শেষ হলে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও কৃষি পণ্য পরিবহনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। ঈদ যাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









