বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাদকের টাকার দাবিতে মায়ের ওপর অভিমান করে নিজের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তামিম হাওলাদার নামে এক মাদকাসক্ত তরুণ। আগুনে বসতঘরসহ ভেতরের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।
রবিবার (২৪ মে) সকালে উপজেলার দক্ষিণ সাতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তামিম ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল হাওলাদারের ছোট ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবক আব্দুল জলিল হাওলাদার মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই নাঈম হাওলাদার জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। বাড়িতে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে একা থাকতো ছোট ছেলে তামিম।
পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকার সুযোগে তামিম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই সে বাড়িতে ভাঙচুর ও মায়ের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতো।
নিহত আব্দুল জলিল হাওলাদারের বড় মেয়ে সুলতানা বলেন, ‘‘ভাইটাকে ভালো করার জন্য আমরা সাধ্যের বাইরে গিয়ে চারবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই ফিরে এসে সে আবার নেশায় জড়িয়ে পড়ে।’’
স্বজনরা জানান, রবিবার সকালে মাদকের টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে তামিমের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মায়ের ওপর চরম ক্ষোভ ও অভিমান দেখিয়ে সে নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দিয়েই তামিম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ সময় তার বৃদ্ধা মা চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকলেও তারা এগিয়ে আসেন। দক্ষিণ সাতলা গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর কোনো রাস্তা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা চেষ্টা করার আগেই চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পুরো বাড়ি।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরটিতে থাকা প্রায় ১০০ মণ ধান, কয়েক মণ চাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, নতুন কেনা ফ্রিজ, সুটকেস, ৬টি খাট ও স্টিলের আলমারিসহ জীবনের সমস্ত সঞ্চয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারটির দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার এবং উজিরপুর উপজেলা মহিলা দলের সম্পাদিকা শিরিন আক্তার। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাতে জরুরি আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক কীভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। অভিযুক্ত তামিমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









