বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় খাবারের লোভ দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পিন্টু দাস (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে চতুরতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বখাটেকে কামড় দিয়ে রক্ষা পায় শিশুটি। পরে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত পিন্টুকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের হরহর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পিন্টু দাস ওই গ্রামের মৃত খোকন দাসের ছেলে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার জানায়, সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল শিশুটি। এ সময় পিন্টু দাস তাকে একা পেয়ে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায় সে। বিপদ আঁচ করতে পেরে শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করে এবং সর্বশক্তি দিয়ে বখাটে পিন্টুর হাতে কামড় দিলে ব্যথায় পিন্টুর হাত শিথিল হতেই শিশুটি দৌড়ে পালিয়ে আসে এবং পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা বলেন, “আমার মেয়ে পাশের বাড়িতে খেলতে গেলে কিংবা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করে আসছিল। তাকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে শোনেনি। পরে এলাকাবাসী তাকে এ নিয়ে কঠোরভাবে শাসিয়েও দিয়েছিল। কিন্তু পিন্টুর পৈশাচিক নজর দূর হয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস ঢাকার একটি জুয়েলারিতে কাজ করত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে গ্রামে চলে আসে। এরপর এলাকার কুখ্যাত মাদক চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের টাকা জোগাড় করতে সে এলাকায় নানামুখী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিল।
এদিকে শিশুটিকে যৌন হয়রানির খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পিন্টু দাসকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পিন্টুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পিন্টু দাস দোষ অস্বীকার করে জানায়, একটি পক্ষ পূর্ব শত্রুতার জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গণপিটুনি দিয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “বিষয়টি এখনো কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এলাকায় মাদকাসক্ত বখাটেদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিন্টু দাসের মতো অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









