মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসলেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে সড়ক, জনপদ ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টিতে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত চারটি স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। অনেক স্থানে ছোট যানবাহনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রীদের নেমে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করতে দেখা গেছে।
এদিকে পৌরশহরের ষাটমাছড়া এলাকার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে শহরের উত্তর চৌমুহনী ও হাটবন্দ এলাকার রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় কলোনির অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার অর্ধশতাধিক হেক্টর জমির চলতি মৌসুমের আউশের বীজতলা ও সদ্য রোপিত আউশ ধানের খেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেলে আউশের বীজতলা ও আউশ ধানের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া।
ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, “দুই দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আমরা প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি এবং কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা ও টেকসই ড্রেনেজ পরিকল্পনার অভাবে প্রতি বছর বর্ষা এলেই বড়লেখার মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









