প্রকৃতির বুকে ছোট্ট প্রাণীদের জীবনও সংগ্রাম আর অভিযোজনের এক অনন্য গল্প। গ্রামবাংলার পরিচিত পাখি শালিকপ্রতিদিন মানুষের আশপাশে বিচরণ করলেও বৈরী আবহাওয়ার সময় তাদের অসহায়ত্ব চোখে পড়ে ভিন্নভাবে। ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তাদের ছুটে চলা যেন জীবনের প্রতি এক অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় হঠাৎ শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। আকাশজুড়ে কালো মেঘ, দমকা বাতাস আর টানা বৃষ্টির মধ্যে দেখা যায় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তেই একটি শালিক দ্রুত উড়ে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খেজুর গাছের পাতার আড়ালে আশ্রয় নেয়। সেখানে বসে সে বারবার ডাকতে থাকে, যেন আপনজনদের খোঁজ করছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আরও কয়েকটি শালিক এসে একই গাছে জড়ো হয়। ঝড়ের ভয়াল মুহূর্তে একে অপরের সান্নিধ্যে নিরাপত্তা খুঁজে নেওয়া পাখিগুলোর এই দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। ক্ষুদ্র প্রাণীদের এই পারস্পরিক নির্ভরতা যেন প্রকৃতির এক নীরব শিক্ষা,বিপদের সময়ে একসঙ্গে থাকাই শক্তি।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়-বৃষ্টির সময় প্রায়ই পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াতে দেখা যায়। তবে খেজুর গাছের পাতার ফাঁকে শালিকদের এমনভাবে একত্রিত হওয়ার দৃশ্য ছিল সত্যিই ব্যতিক্রমী ও মুগ্ধকর।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শুধু মানুষের নয়, অসংখ্য পাখি ও বন্যপ্রাণীরও আশ্রয়স্থল। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রাণীর নিরাপদ আবাসও কমে যাচ্ছে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গাছ সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়া সময়ের দাবি।।
ঝড়ের সেই ক্ষণিক দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয়,এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়; আকাশে উড়ে বেড়ানো প্রতিটি পাখিরও রয়েছে নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার। খেজুর গাছের পাতার আড়ালে আশ্রয় নেওয়া শালিকদের গল্প তাই প্রকৃতির ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক নীরব বার্তা হয়ে ধরা দেয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









