বরিশালের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক দন্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক দরিদ্র রোগীর ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) জোরপূর্বক আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত ১ হাজার টাকা দিতে না পারায় ওই চিকিৎসক রোগী ও তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এসে এমন খামখেয়ালিপনা, হয়রানি ও অন্যায্য দাবির শিকার হয়েছেন উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হান্নান সরদার ও তাঁর স্ত্রী। এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজলা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ইদ্রিস সর্দারের ছেলে হান্নান সরদার দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের তীব্র সমস্যায় ভুগছিলেন। সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত বিভাগে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিপন তাঁর একটি দাঁত তুলে ফেলেন।
অভিযোগ উঠেছে, দাঁত তোলার পরপরই ডা. রিপন রোগীর কাছে ১,০০০ (এক হাজার) টাকা দাবি করেন। কিন্তু দরিদ্র হান্নান সরদারের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি চিকিৎসকের ফি বাবদ ৫০০ টাকা দিতে চাইলেও ডা. রিপন তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং পুরো টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
ভুক্তভোগী হান্নান সরদার তাঁর ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি গরিব মানুষ, এক হাজার টাকা একসঙ্গে দিতে না পারায় ৫০০ টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ডাক্তার বাবু সেই টাকা তো নিলেনই না, উল্টো আমার ও আমার স্ত্রীর ওপর চড়াও হয়ে আমাদের প্রেসক্রিপশনটি জোরপূর্বক আটকে রাখেন। প্রেসক্রিপশন ছাড়া আমরা কীভাবে ওষুধ কিনব বা পরবর্তীতে চিকিৎসা নেব, সেই চিন্তায় পড়ে গেছি। সরকারি হাসপাতালে এসে এমন অমানবিক ব্যবহার পাব, তা কখনো ভাবিনি।
টাকা না পেয়ে ডা. রিপন তাঁদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দম্পতি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত দন্ত চিকিৎসক ডা. রিপনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসাপত্র আটকে রাখার মতো সংবেদনশীল ও অমানবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









