শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা চাঁদাবাজি ও চাঁদা দাবির মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামি করায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মিরাজ শিকদারকে। তবে তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করছিলেন মাত্র।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে কয়েকজন যুবক তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তিনি প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায় পরবর্তীতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সুজিত কর্মকার বাদী হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে চাঁদা দাবি ও হামলার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নামীয় আসামিরা হলেন— বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন (৫০), আশিক বেপারী (৩৫), সাহিন মাদবর (৫২), মিরাজ শিকদার (৪৫), মিঠু শিকদার (২৫), শাহ আলম (৪২), ইপ্তি সরদার (৩০) ও আলিফ শিকদার (২৮)।
এদিকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষককে মারধরের সময় ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে অন্যদের সঙ্গে সাংবাদিক মিরাজ শিকদার ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাকে মামলার আসামি করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
মিরাজ শিকদার বলেন, “প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে আমি সংবাদ প্রকাশ করেছি। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ঘটনার সময় আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম এবং ভিডিও ধারণ করছিলাম। আমি আশা করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হবে।”
সাংবাদিককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, “কোনো সাংবাদিক যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত রেষারেষি বা অন্য কোনো কারণে মামলার আসামি হন, তাহলে তা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, “মিরাজ শিকদারই এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে হামলা করিয়েছেন। পরে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছেন।”
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালত থেকে এখনো মামলার কাগজপত্র হাতে পাইনি। কাগজপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে মামলার আসামি করার বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









