গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে নৃশংস হত্যার আলামত পাওয়ায় বড় ছেলে সাইফুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর বনমালা এলাকার রেললাইনের পূর্ব পাশে নিজ টিনশেড ঘর থেকে প্রথমে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিকটবর্তী রেললাইন থেকে তার পিতা সোহেল রানা (৪৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাকিব উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার পিতা সোহেল রানা পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (যোগালী) ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিবারে মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সাকিবের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও নৃশংস। তার মাথার পেছনে গভীর জখম রয়েছে এবং ডান হাতের কব্জি ও বাম পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কাটা হয়েছে। এসব আলামত থেকে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সোহেল রানার মরদেহ পাশের রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়ায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সময় একই ঘরে থাকা বড় ছেলে সাইফুর রহমান (২৮)-এর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ তাহেরুল হক চৌহান জানান, পিতা-পুত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বড় ছেলে সাইফুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









