ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মামলায় সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হায়দার মুন্সি (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রতিপক্ষরা। হামলায় তার ছোট ভাই সুজন মুন্সি (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদরের ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডলের সঙ্গে হায়দার মুন্সির বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মারামারির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হায়দার মুন্সি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেন। সেই ঘটনার জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে কালাম মণ্ডলের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দার মুন্সির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সুজন মুন্সিকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হায়দার মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার দুটি হাত ও একটি পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং একটি হাত ও একটি পা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত সুজন মুন্সি জানান, কয়েক বছর আগের একটি বিরোধের ঘটনায় তার ভাই সত্য ঘটনা তুলে ধরায় প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সুযোগ পেয়ে এ নৃশংস হামলা চালায়।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









