সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হলেও বেনাপোল সীমান্তের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ীরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর ঘোষণা অনুযায়ী গত ১মে হতে দেশ জুড়ে মাদক,অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হলেও বেনাপোল এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য সফলতা মেলেনি।
যদিও বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফ হোসেন জানান,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের চলমান প্রক্রিয়া। বিশেষ অভিযানের আওতায় আরো গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এলাকার সুশীল সমাজ। তাদের দাবী এ গুলো পুলিশের রুটিন কথা,বাস্তবতায় সত্যতা নেই। ভারত সীমান্ত ঘেষা জনপদ বেনাপোল হওয়ায় সীমান্ত পথে ভারত হতে আসা মাদকদ্রব্য ও অস্ত্রের সহজপ্রাপ্তি রয়েছে।
প্রতিদিন পাশ্ববর্তী উপজেলা,জেলাসহ দূরদূরান্ত হতে মাদকসেবীরা মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকার যোগে ভিড় জমায় বেনাপোল সীমান্তের মাদক দ্রব্য বিক্রয়ের একাধিক পয়েন্টে। মাদকসেবী দের আনাগোনাসহ উৎশৃঙ্খল আচরন এবং মাদককারবারীদের বেপরোয়া চলাফেরায় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা। মাদকের সহজলভ্যতায় উঠতি বয়সী কিশোর,তরুণ ও যুবকেরা ঝুঁকে পড়ছে মাদক সেবনসহ মাদকদ্রব্য কেনা-বেচায়। এছাড়াও অনলাই জুয়ার কবলে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের পরিবারের সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোলের এক মাদকসেবী জানায়,স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু অফিসার প্রতিটি মাদক পয়েন্ট ও মাদকব্যাবসায়ীদের কাছ হতে সপ্তাহ চুক্তিতে টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে থাকে। রুঘুনাথপুর,ঘীবা,সাদিপুর,পুটখালী ও দৌলৎপুর সীমান্তে প্রশাসনের তালিকা ভুক্ত ১ ডজনের বেশী শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় থেকে প্রশাসনের নাগের ডগায় বসে মাদকের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করছে।
এ তথ্যের সূত্র ধরে এলাকায় ব্যাপক খোঁজ খবর নিলে জানা যায়,অনলাইন জুয়াড়ী এবং এজেন্ট বোয়ালিয়া গ্রামের ইকবাল,একাধিক মামলার আসামী ফেন্সি সম্রাট খ্যাত বাদশা মল্লিক, মাদক ব্যবসায়ী বোয়ালিয়ার উজ্জ্বল, সাদীপুর গ্রামের হযরত,পুটখালির নাসির,মদ বিক্রেতা ওবাইদুল,গাঁজা বিক্রেতা রঘুনাথপুর গ্রামের মহি,জামির,রমজানের মত চিহ্নিত মাদককারবারীরা প্রকাশ্য ঘোরাফেরা করলেও তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারেনী পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ এলাকায় চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,গত ২১ এপ্রিল ২০২৫সালে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ কাজী নাজিব হাসান বেনাপোল পৌর এলাকায় অনলাইন জুয়ার পোস্টার অপসারনে উদ্যেগী হয়ে এ কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন। আইপিএল,বিপিএল,প্রিমিয়ার লীগসহ বিভিন্ন ক্লাবের ফুটবল ম্যাচে নিয়মিত ব্যাটিং বা বাজি ধরে তা বিকাশ,নগদ,রকটে লেনদেনের মাধ্যমে জুয়াড়ীরা বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় অনলাইন জুয়ার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
সাম্প্রতি এসব বেআইনি কাজে জড়িতদের গ্রেফতারে সরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকলেও নিষ্ফল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্টথানার ডিউটি অফিসার এ এস আই ইমদাদুল জানান,বিগত ৫-৬ দিনের মধ্যে শীর্ষ কোন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়নি। তবে কি সমঝোতায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে এমন প্রশ্ন জনমনে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









