শরীয়তপুর সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম প্রেমতলা সেতুটি ২০১৭ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও প্রায় নয় বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। নতুন একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেটি এখনও পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্ক নিয়েই পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনচালকদের।
জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই প্রেমতলা সেতু। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পরে ২০১৭ সালে সেতুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে থেমে নেই যান চলাচল।
স্থানীয়দের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন সেতু নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আধুনিক নকশায় নির্মিত নতুন সেতুটি এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে এখনো তা পূরণ হয়নি।
কারণ, নতুন সেতুর দুই পাশে প্রায় ৪০০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও ভাঙন। বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হয় সড়কটি, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এতে করে ছোট যানবাহন থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরোনো সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছেন। তারা দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করে নতুন সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক পরিবহনচালক জানান, নতুন সেতুর সংযোগ সড়ক এতটাই খারাপ যে বাধ্য হয়েই পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। বড় বাস ও কিছু ট্রাক নতুন সেতু ব্যবহার করলেও অধিকাংশ সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন এখনও পুরোনো সেতু দিয়েই চলাচল করছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ হলেও শুধুমাত্র সংযোগ সড়কের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দ্রুত কাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাবিল হোসেন বলেন, “জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালু করার চেষ্টা চলছে।”
যেখানে নতুন সেতু হওয়ার কথা ছিল নিরাপদ, দ্রুত ও স্বস্তির যাতায়াতের প্রতীক, সেখানে এখনও চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করে নতুন সেতুটি শতভাগ চালু করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় শরীয়তপুরবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









