একসময় প্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকা হাম আবার বিভিন্ন দেশে বাড়তে শুরু করেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং বিপুলসংখ্যক শিশুর টিকার আওতার বাইরে থেকে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই সংক্রমণ আরও দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে।
হাম বাড়ার প্রধান কারণ
অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। ফলে তাদের শরীরে হামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। করোনাকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই সময়ের ঘাটতি এখনো পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিতভাবে না হওয়ায় অনেক শিশু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পায়নি। কিছু ক্ষেত্রে টিকার মজুত, সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভিটামিন ‘এ’সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
যেভাবে ছড়ায় হাম
* আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়।
* বন্ধ ঘরে ভাইরাস কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস স্পর্শ করে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলেও সংক্রমণ হতে পারে।
* শরীরে র্যাশ ওঠার আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারেন।
কেন সংক্রমণ দ্রুত কমছে না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসংখ্যার বড় অংশের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশুর টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন না হলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, দ্রুত রোগী শনাক্ত করতে না পারা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার সমস্যাও সংক্রমণ বাড়ার কারণ হতে পারে।
হামের সাধারণ লক্ষণ
* তীব্র জ্বর
* শরীরে লালচে র্যাশ
* চোখ লাল হওয়া
* কাশি ও সর্দি
* দুর্বলতা
হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









