বিশ্বকাপের মতো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক পরম আরাধ্য স্বপ্ন। কেউ এই সুযোগের জন্য বছরের পর বছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন, আবার সুযোগ না পেয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে ডাক পেয়ে যেখানে ব্রাজিলের নেইমারের মতো তারকা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন কিংবা স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজির স্থাপন করলেন তিউনিসিয়ার এক তরুণ স্ট্রাইকার।
তিউনিসিয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল বেন ফারহাতকে। বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুচির মূল পরিকল্পনা জুড়েই ছিলেন এই তরুণ। ধারণা করা হচ্ছিল, শুধু ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলেই নয়, বরং বিশ্বকাপের মূল একাদশেও দেখা যেতে পারত তাকে।
তিউনিসিয়া কোচ বলেন, আজ সকালে চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বেন ফারহাতের বাবার কাছ থেকে আমি একটি ফোন কল পাই। তিনি আমাকে সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর ছেলের জন্য এখনই বিশ্বকাপে খেলা বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে। তাকে এই বড় মঞ্চে রাখার সময় এখনও আসেনি এবং তিনি তাঁর ছেলেকে বিশ্বকাপে খেলাতে একেবারেই রাজি নন।
কোচ আরও যোগ করেন, এই ফোন পাওয়ার পর তিনি নিজে বেন ফারহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওই ফুটবলারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো বিষয়টিকে জাতীয় দলের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন কোচ।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে দল ভালো না করলে বা ছেলে ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ফুটবলে তার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারহাতের পরিবার। তাদের ধারণা, বড় মঞ্চে এই বয়সে ব্যর্থতার দায় চেপে বসলে ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো ফারহাতের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
তবে এর পেছনে অন্য একটি সমীকরণও দেখছেন অনেকে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া বেন ফারহাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে বেন ফারহাত জার্মান জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার আশায় আছেন বলেও আলোচনা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









