শ্রেয়াস আইয়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে প্লেঅফে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে পাঞ্জাব কিংস। তবে নিজেদের কাজ করে রাখলেও তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই।
তাকিয়ে থাকতে হবে রাজস্থান রয়্যালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পারফরম্যান্সের দিকে।
আইপিএলের প্লেঅফের একটি জায়গার লড়াইয়ে আছে এখন এই তিন দল। বাকি তিনটি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে আগেই।
শীর্ষে থাকা তিন দলই প্রাথমিক পর্বের ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে, তিন দলেরই পয়েন্ট ১৮। রান রেটে সবার ওপরে রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, দুইয়ে গুজরাট টাইটান্স। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ধারামশালায় মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
রান রেটে তিনে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বুধবার এলিমিনেটর ম্যাচে নিউ চান্ডিগাড়ে কোন দলের মুখোমুখি হবে, সেটি জানার অপেক্ষা এখন।
আপাতত পয়েন্ট তালিকার চারে আছে পাঞ্জাব। প্রথম সাত ম্যাচের ছয়টিতে জয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের পয়েন্ট নিয়ে তারা একসময় ছিল শীর্ষে। অবিশ্বাস্যভাবে পরের ছয় ম্যাচ টানা হেরে তারা পৌঁছে গিয়েছিল বিদায়ের দুয়ারে। শেষ পর্যন্ত শনিবার লাক্ষ্নৌকে হারিয়ে কোনোরকমে আশা জিইয়ে রেখেছে গত আসরের রানার্স আপ দলটি।
এই ম্যাচে পাঞ্জাবের জয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের আশাটুকু শেষ হয়ে গেছে।
প্রাথমিক পর্বের শেষ দিনে রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় ওয়াংখেড়েতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান রয়্যালস, রাত ৮টায় দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে লড়বে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
লড়াইয়ে থাকা তিন দলের অবস্থান ও সম্ভাবনা এখন এমনঃ
পাঞ্জাব কিংস- ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট, রান রেট-০.৩০৯
কলকাতা নাইট রাইডার্স-১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট, রান রেট-০.০১১
লাক্ষ্নৌর বিপক্ষে ১২ বল বাকি থাকতে পাঞ্জাবকে রান রেটে আপাতত শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে, যদি রবিবার রাজস্থান রয়্যালস তাদের শেষ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে যায়। বড় জয়ে তাদের নেট রান রেট বেড়ে ০.৩০৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা কলকাতার চেয়ে অনেক এগিয়ে।
এর মানে হলো, কলকাতার শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে কেবল হারালেই চলবে না, বরং এমন ব্যবধানে হারাতে হবে, যাতে তাদের নেট রান রেট পাঞ্জাবের ওপরে উঠে আসে। তা করতে হলে, সম্ভাব্য একটি চিত্র দেখানো যেতে পারে। আগে ব্যাট করলে কলকাতা ২০০ রান করলে তাদের অন্তত ৭৭ রানে জিততে হবে, ২২৫ রান করলে ৭৬ রানে জিততে হবে, আর ১৮০ রান হলে জিততে হবে ৭৮ রানে।
দিল্লি আগে ব্যাট করে যদি ১৮০ রান করে, তাহলে কালকাতাকে তাদের চূড়ান্ত স্কোরের ওপর নির্ভর করে ১২ থেকে ১২.৪ ওভারের মধ্যে সেই রান তাড়া করতে হবে। ডিসি ২০০ রান করলে, কলকাতাকে জিততে হবে ১২.১ থেকে ১২.৪ ওভারের মধ্যে।
কলকাতার জন্য একটি আশার কথা, শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে। এখানে মৌসুমের প্রথম দুটি ম্যাচ হারলেও সবশেষ তিনটি তারা জিতেছে।
রাজস্থান রয়্যালস- ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট, রান রেট -০.০৮৩
তিন দলের মধ্যে সুবিধেজনক অবস্থানে আছে আপাতত রাজস্থান রয়্যালস। তাদের হিসাব সোজা, শেষ ম্যাচ জিতলেই প্লেঅফ!
রোববার দিনের প্রথম ম্যাচটিতে যদি রাজস্থান জিতে যায়, ওপরে উল্লিখিত পরিসংখ্যান বা সমীকরণের কোনো মূল্যই থাকবে না। জিতলে রাজস্থানের পয়েন্ট হবে ১৬ এবং তারা চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করবে।
হেরে গেলে তারা লড়াই থেকে ছিটকে পড়বে। তখন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে পাঞ্জাবের, আর সুযোগ থাকবে কলকাতার, যেটির চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচ বা আসরের ৭০তম ম্যাচ পর্যন্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









