২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নজর থাকবে বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ওপর। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে নতুন প্রজন্মের অসংখ্য ফুটবলারও নিজেদের পরিচিতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।
রেকর্ড ১,২৪৮ জন খেলোয়াড় এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন। তাদের মধ্যে ৮৯১ জনই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবেন। অনেকেই এখনও বিশ্ব ফুটবলের সাধারণ দর্শকের কাছে খুব বেশি পরিচিত নন, কিন্তু নিজেদের প্রতিভা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার সম্ভাবনা রাখেন।
বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্বকাপ ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা প্রিমিয়ার লিগ ও স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের বাইরে খেলা এমন ২০ জন ফুটবলারের নাম বেছে নিয়েছেন, যাদের দিকে বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১. ইয়ান দিয়োমান্দে (আইভরি কোস্ট)
বয়স: ১৯
পজিশন: উইঙ্গার
ক্লাব: আরবি লাইপজিগ
বুন্দেসলিগার ‘রুকি অব দ্য সিজন’ পুরস্কারজয়ী ইয়ান দিয়োমান্দে বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ফুটবলারদের একজন। ২০২৫ সালে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেস থেকে মাত্র ২০ মিলিয়ন ইউরোতে লাইপজিগে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই ৩৩ ম্যাচে ১২ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেন।
তার পারফরম্যান্সে লাইপজিগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করে। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের আগ্রহ থাকলেও লাইপজিগ তাকে বিক্রি করতে নারাজ। তার মূল্য ধরা হচ্ছে ১৩০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়ে ফ্লোরিডায় তিন বছর কাটানো দিয়োমান্দে এবারের বিশ্বকাপের পরিবেশের সঙ্গে বেশ পরিচিত। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের চমকপ্রদ জয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।
২. গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো)
বয়স: ১৭
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: তিহুয়ানা
বিশ্বকাপের সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মেক্সিকোর হয়ে অভিষেক ঘটে তার। গত গোল্ড কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে ‘মেক্সিকান পেদ্রি’, ‘মেক্সিকান পার্ল’ এবং ‘ক্রাকিতো’ (ছোট্ট জাদুকর) নামে অভিহিত করা হয়।
২০২৪ সালে ১৫ বছর বয়সে লিগা এমএক্স ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির আগ্রহের খবরও রয়েছে। তবে স্পেনে জন্ম নেওয়া আলভারো ফিদালগোর মেক্সিকোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্তের ফলে মোরাকে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে লড়াই করতে হতে পারে।
৩. জোহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড)
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: ফ্রাইবুর্গ
শৈশবে গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা জোহান মানজাম্বি এখন সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বড় সম্ভাবনা। ফ্রাইবুর্গকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
মিডফিল্ডের একাধিক পজিশনে খেলতে সক্ষম মানজাম্বি ইউরোপা লিগে সাত গোল করেন। ব্রাগার বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত গোলটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার ৩৩টি শট সতীর্থদের চেয়ে ১১টি বেশি ছিল।
সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক গ্রানিত জাকা প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন। অনেকের মতে, খুব শিগগিরই জার্মানির বড় ক্লাব কিংবা ইংল্যান্ডের কোনো শীর্ষ দলে দেখা যেতে পারে তাকে।
৪. রিকার্দো পেপি (যুক্তরাষ্ট্র)
বয়স: ২৩
পজিশন: স্ট্রাইকার
ক্লাব: পিএসভি আইন্দহোভেন
ডাচ লিগ শিরোপাজয়ী পিএসভির হয়ে গত মৌসুমে ১৯ গোল করেন পেপি। শেষ পাঁচ ম্যাচে তার গোল ছিল ছয়টি।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ১৩ গোল রয়েছে তার। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আশা-ভরসার বড় অংশ জুড়ে থাকবেন এই স্ট্রাইকার।
৫. নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)
বয়স: ২১
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: কোমো
আর্জেন্টাইন সাবেক ডিফেন্ডার পাবলো পাজের ছেলে নিকো পাজ। কোমোতে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন।
সেরি আ-তে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন তিনি। মৌসুমে ১৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তাকে বিক্রি করলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর বাই-ব্যাক ক্লজ রেখে দিয়েছে।
৬. গেসিম ইয়াসিন (মরক্কো)
বয়স: ২০
পজিশন: ডান উইঙ্গার
ক্লাব: স্ট্রাসবুর্গ
ফরাসি দ্বিতীয় বিভাগের ডানকার্ক থেকে স্ট্রাসবুর্গে যোগ দেওয়া ইয়াসিনকে একসময় নজরে রেখেছিল বার্সেলোনা।
২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোর শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন। টুর্নামেন্টে দুটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও বল নিয়ন্ত্রণ ইতোমধ্যেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে।
৭. লুকাস হ্যারিংটন (অস্ট্রেলিয়া)
বয়স: ১৮
পজিশন: সেন্টার-ব্যাক
ক্লাব: কলোরাডো র্যাপিডস
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী স্কোয়াড সদস্য। ব্রিসবেনে জন্ম নেওয়া হ্যারিংটন ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং দ্রুতই জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।
৮. কেরিম আলাজবেগোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
বয়স: ১৮
পজিশন: উইঙ্গার
ক্লাব: রেড বুল সালজবুর্গ
সালজবুর্গে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর সাবেক ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়েলস ও ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্লে-অফে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি নিয়ে আলোচনায় আসেন। বসনিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ পোস্টার বয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি।
৯. জান উজুন (তুরস্ক)
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট
জার্মানিতে জন্ম হলেও তুরস্ককে বেছে নিয়েছেন উজুন। গত মৌসুমে ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রথম পাঁচ বুন্দেসলিগা ম্যাচেই পাঁচ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেন। যদিও পরে হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগেছেন।
১০. আর্মান্দো গঞ্জালেজ (মেক্সিকো)
বয়স: ২৩
পজিশন: স্ট্রাইকার
ক্লাব: গুয়াদালাহারা
গত মৌসুমে ২৫ গোল করে জাতীয় দলে ডাক পান। তাকে অনেকেই মেক্সিকোর কিংবদন্তি হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজের সঙ্গে তুলনা করছেন। বিশ্বকাপে ‘সুপার সাব’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
১১. আয়্যুব বুয়াদি (মরক্কো)
বয়স: ১৮
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: লিল
ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলার সময় ‘আইনস্টাইন’ নামে পরিচিত ছিলেন। গণিতে ডিগ্রি অধ্যয়নরত এই মিডফিল্ডার সম্প্রতি মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার তিন দিন পরই লিলের হয়ে অভিষেক ঘটে তার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
১২. হুসেম আওয়ার (আলজেরিয়া)
বয়স: ২৭
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: আল-ইত্তিহাদ
একসময় ফ্রান্সের হয়ে খেললেও পরে আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। সৌদি প্রো লিগে গত মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন। লিওঁর সাবেক এই মিডফিল্ডার আবারও সেরা ফর্মে ফিরেছেন।
১৩. আলেসান্দ্রো সিরকাতি (অস্ট্রেলিয়া)
বয়স: ২২
পজিশন: সেন্টার-ব্যাক
ক্লাব: পারমা
ইতালিতে জন্ম নেওয়া সিরকাতি অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষণভাগের নেতা হিসেবে বিবেচিত। গত সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯৮১ সালের পর সবচেয়ে কমবয়সী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হন।
১৪. আলি জাসিম (ইরাক)
বয়স: ২২
পজিশন: বাম উইঙ্গার
ক্লাব: কোমো (ধারে আল-নাজমা)
১৪ বছর বয়সে ইরাকি প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক এবং ১৫ বছর বয়সে প্রথম সিনিয়র গোল করেন। ২০২৪ অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। বর্তমানে সৌদি আরবে ধারে খেলছেন।
১৫. মোহাম্মদ আমৌরা (আলজেরিয়া)
বয়স: ২৬
পজিশন: স্ট্রাইকার/উইঙ্গার
ক্লাব: ভলফসবুর্গ
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১০ গোল করে আফ্রিকান অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। মিশরের মোহাম্মদ সালাহও তার চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন।
১৬. লুইস সুয়ারেজ (কলম্বিয়া)
বয়স: ২৮
পজিশন: স্ট্রাইকার
ক্লাব: স্পোর্টিং লিসবন
উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ নন, কলম্বিয়ার এই ফরোয়ার্ড স্পোর্টিংয়ের হয়ে প্রথম মৌসুমেই ৩৮ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন। আর্সেনালে চলে যাওয়া ভিক্টর গিয়োকারেসের শূন্যস্থান পূরণ করেছেন দারুণভাবে।
১৭. ব্রায়ান গুতিয়েরেস (মেক্সিকো)
বয়স: ২২
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: গুয়াদালাহারা
ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া গুতিয়েরেস ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেললেও পরে মেক্সিকোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। চিভাসে যোগ দিয়ে দ্রুতই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৮. বাজৌমানা তোরে (আইভরি কোস্ট)
বয়স: ২০
পজিশন: বাম উইঙ্গার
ক্লাব: হফেনহাইম
‘দ্য হারিকেন’ নামে পরিচিত তোরে তার অসাধারণ গতির জন্য বিখ্যাত। হ্যামারবি থেকে হফেনহাইমে যোগ দেওয়ার পর ৩০ লিগ ম্যাচে ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও নিউক্যাসলের আগ্রহের খবরও রয়েছে।
১৯. ইব্রাহিম মাজা (আলজেরিয়া)
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: বায়ার লেভারকুসেন
জার্মান যুবদল ছেড়ে আলজেরিয়ার হয়ে খেলতে আসা মাজা ইতোমধ্যেই ‘মাজাদোনা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। রিয়াদ মাহরেজের উত্তরসূরি হিসেবেও তাকে দেখা হচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে ১৫ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০. লুকা ভুসকোভিচ (ক্রোয়েশিয়া)
বয়স: ১৯
পজিশন: সেন্টার-ব্যাক
ক্লাব: টটেনহ্যাম (ধারে হামবুর্গ)
টটেনহ্যাম প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে তাকে দলে ভেড়ায়। হামবুর্গে ধারে খেলে শুধু রক্ষণেই নয়, ছয়টি গোল করে আক্রমণেও অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ শেষে টটেনহ্যামে ফিরে নিয়মিত খেলার প্রত্যাশা করছেন তিনি।






















সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









