পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ২ নং আলীপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মজিদ মৃধার ছোট ছেলে মো. মোহন মৃধা (৫০), তার স্ত্রী হালিমা বেগম (৩৫), তাদের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে জামিলা বেগম (১২), মোজাম্মেল মৃধার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০) এবং তার ছেলে মহিউদ্দিন (২৫)। আহতদের মধ্যে হালিমা বেগম অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। পরে আহতদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মজিদ মৃধার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পক্ষের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পাঁচজন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত হালিমা বেগমের অভিযোগ, তার শ্বশুর দুইটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সাত সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে রয়েছে। তাদের দাবি, শ্বশুর জীবিত থাকাকালে ওয়ারিশদের মধ্যে জমি বণ্টন করে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ঘরের ওয়ারিশ হিসেবে তারা দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর ধরে নিজেদের জমি ভোগদখল করে আসছেন।
হালিমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাদের শ্বশুরের কাছ থেকে একটি জাল দলিলের মাধ্যমে জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা পটুয়াখালী আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেছেন, যা বর্তমানে চলমান। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার কয়েকজন ওই জমিতে মুগডাল ফলানোর জন্য গেলে তারা বাধা দেন। এ সময় মইনুল, হেমায়েত, হেলাল, হাফিজ ও মজিবর মৃধাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, এটি তাদের পারিবারিক বিষয়। এ নিয়ে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে, কোনো মারামারি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আহত করার অভিযোগকে তারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘মারামারির ঘটনার কথা শুনে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









