সার ও পোকা দমনের বিষ প্রয়োগে সুনির্দিষ্ট ধারণা না থাকায় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কৃষকদের প্রতি বছর বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে এই সমস্যা চলে আসলেও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় দিন দিন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
জানা যায়, আজমিরীগঞ্জসহ হাওর এলাকার কৃষকরা সাধারণত বর্ষার শেষ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল ফলান। বিশেষ করে শরৎকাল থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত হাওরে ধানসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করা হয়। এ সময়ে ধানগাছসহ বিভিন্ন ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকরা জমিতে নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেন। অনেক সময় একই জমিতে বারবার কীটনাশক দিয়েও পোকা দমন করা যায় না, ফলে কৃষকদের শুধু কীটনাশক বদলাতে দেখা যায়।
সম্প্রতি উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের কৃষক লিয়াকত মিয়াকে (৪৫) তার রোপা আমন ক্ষেতে পোকা দমনের জন্য বিষ প্রয়োগ করতে দেখা যায়। তাকে কোন পোকার আক্রমণ ও কী বিষ দিচ্ছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। দোকানদার যে বিষ দিয়েছেন, সেটাই তিনি বাজার থেকে এনে জমিতে প্রয়োগ করেছেন।
একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মিজবাহ উদ্দিনও (৫৫) তার সবজি ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করার সময় জানান, তিনিও জানেন না কোন পোকার আক্রমণে কোন বিষ দিতে হয়। বাজারে কীটনাশক বিক্রেতাকে গাছের সমস্যার কথা বলার পর বিক্রেতা তাকে দুটি বিষের প্যাকেট দিয়েছেন এবং তিনি সেগুলোই ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু কীটনাশক নয়, সার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও এলাকার কৃষকদের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তারা অনেকটাই নিজেদের খেয়ালখুশি মতো জমিতে সার প্রয়োগ করে থাকেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সুষম মাত্রায় সার দিতে হয়। এছাড়া ফসল লাগানোর নির্দিষ্ট সময় আগে গোবর বা জৈব সার ব্যবহার এবং পরবর্তীতে পরিমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন কৃষকদের অসচেতনতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "কৃষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এবং কীটনাশক বিক্রেতাদের নির্দেশমতো বিষ ও সার প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে অনেক বিক্রেতা কৃষকদের অপ্রয়োজনীয় বা একাধিক ওষুধ গছিয়ে দেন। অথচ নিয়ম হলো, প্রতিটি ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করা।"
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠে যাওয়ার বিধান রয়েছে এবং কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় তারা সবসময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে সচেষ্ট রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









