ভোলার চরফ্যাশনে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর বশার পন্ডিত (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। পরদিন একটি ডোবা থেকে তার গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত বসার পন্ডিত উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সালমা নামে এক নারী ফোন করে বসার পন্ডিতকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বশার।
পরদিন বেলা ১২টার দিকে সালমার বাড়ির সামনে কচুরিপানায় ভরা একটি ডোবা থেকে গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় বসার পন্ডিতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে চরফ্যাশন ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমা ও তার স্বামী সাহিদুর রহমানকে আটক করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। সন্দেহভাজন সালমা একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল মৃর্দার মেয়ে।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ, চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান এবং দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির।
নিহতের বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে তার মরদেহ পাওয়া গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমা ও তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









