মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান ব্যাংকটির ভিতরে চালাতেন নিজের ব্যাংক। গ্রাহকদেরকে সহায়তা করার নামে তাদের কাছ থেকে অর্থ বুঝে নিয়ে নিজের তৈরি সিল ও জমা বইয়ে স্বাক্ষর করে বিদায় করে দিতেন।
পরে আর সে টাকা একাউন্টে জমা দিতেন না। এছাড়া প্রবাসী গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে তুলে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এর বাইরে এফডিআর, সঞ্চয়পত্রের মতো বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ জমা পরেছে।
বরিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটিতে অ্যাকাউন্ট যাচাই করার জন্য মূল ফটক থেকে বাহির পর্যন্ত গ্রাহকদের ভিড় দেখা যায়।
এক পর্যায়ে তারা শ্রীনগর প্লাজার গেট ভাংচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে অ্যাকাউন্ট যাচাই করে টাকা লোপাটের বিষয়ে জেনে কয়েকজন গ্রাহক জ্ঞান হারান। গ্রাহকদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘রবিবার বিকাল পর্যন্ত তথ্যানুসারে শতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দশ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য মিলেছে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের অভিযোগ দিয়েছেন। অনেকেই অপেক্ষা করছেন অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য।’’
এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার আমানত লোপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পরলে ব্যাংকটির শত শত গ্রাহক ভিড় করতে থাকেন। এর দুদিন আগে থেকেই ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার শরিফুজ্জামান সোহাগ পলাতক ছিলেন।
আরও পড়ুন: অগ্রণী ব্যাংক গ্রাহকদের প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে ‘হাওয়া’ ক্যাশ অফিসার
সেদিন দেখা যায়, ১৪টি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় পৌঁণে দুই কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এতে ব্যাংকটির প্রবাসী ও নারী গ্রাহকসহ প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পরে।
অগ্রণী ব্যাংক মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান, এই ঘটনায় ব্যাংকটির পলাতক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মো. জিন্নাহকে শোকজ করা হয়েছে।
শরীফুজ্জানের ব্যক্তিগত সিলে গ্রহণ করা টাকা গ্রাহকরা ফেতর পাবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অডিট টিম কাজ করছে। এর বাইরে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি যাচাই বাছাই করে গ্রাহকের অর্থ ফেতর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। কতজনের বা কি পরিমাণ টাকা লোপাট হয়েছে তা সব অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের আগে বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ গ্রহণ আজই শেষ নয়, যখনই কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অসঙ্গতি ধরা পরবে তিনি তখনই অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









