ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ববিতা রাণী রায় (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের পাতিলাবিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ববিতা ওই গ্রামের সুজন রায়ের স্ত্রী। তাদের সাত মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহত ববিতার পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বামীর দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতের স্বামী সুজন রায়ের ভাষ্য, সোমবার রাতে টাকা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে হঠাৎ শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে গেলে ঘরের তীরের (সরের) সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ববিতাকে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে কাঁচি দিয়ে ওড়না কেটে তাকে নিচে নামানো হয়। তখনো তিনি জীবিত ছিলেন বলে দাবি স্বামীর। পরে পাশের গ্রামের এক পল্লী চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি এসে ববিতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে আত্মহত্যার এই দাবি মানতে নারাজ ববিতার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য ববিতাকে মারধর করতেন স্বামী সুজন। টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে ববিতাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।
পীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জেরে ওই গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’’
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









