একটা সময় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকতো বাংলার ভ্যানিস খ্যাত বরিশাল। শীতে পুরো বিভাগ জুড়ে বসতো অতিথী পাখিদের সমাবেশ।তবে সময়ের পালাবদলে বরিশাল পরিণত হতে শুরু করেছে কংক্রিটের জনপদ। ফলে পাখিরা তাদের প্রাকৃতিক আবাস হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। যাও টিকে আছে তার অবস্থা নাজুক। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত জরুরী। আর নগরায়নের ফলে পাখিদের জীবন চক্রে যেন কোন প্রভাব না পরে সেদিকে কঠোর হওয়ার কথা জানায় নগর প্রশাসন।
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়—জীবনানন্দ দাশের এই কালজয়ী আকুতিই যেন পাখিদের ভালোবাসার এক অনন্য কাব্যিক দলিল। কবির এ চরণে ধনধান্যে ভরা নয়নাভিরাম এ রূপসী বাংলার প্রতি যে গভীর মমতা ফুটে উঠেছে, হয়তো সেই টানে বাংলার ভ্যানিসকেই নিরাপদ আবাসস্থল বলে মনে করে পাখিরা।
তবে প্রতিদিনই বরিশাল নগরীর বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন বহুতল ভবন পাশাপাশি চলছে উন্নয়ন প্রকল্প। আর সেই উন্নয়নের সঙ্গে তাল মেলাতে অপরিকল্পিত ভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছপালা। এতে বরিশাল জুড়ে সবুজের পরিমাণ যেমন কমেছে, তেমনি প্রাকৃতিক আবাস হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাখিরা।
একসময় পুরো বরিশাল নগরী জুড়ে পাখির আবাসস্থল থাকলেও এখন তা শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে বিবির পুকুর পাড়ের কয়েকটি গাছ জুড়ে টিকে আছে পাখির কলরব। ছোট্ট জায়গায় কয়েকটি গাছ জুড়ে বিভিন্ন জাতের পাখিরা স্থায়ী আবাস গড়েছে সেখানে। জানা গেছে বেশ কয়েকবার নানা প্রয়োজনে গাছ গুলো কাটার চেষ্টা করা হলেও পাখিদের কথা চিন্তা করে সেগুলো কাটতে দেয়া হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক আবাস না হারিয়ে টিকে আছে পাখিগুলো।
বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, গত ২০ বছর ধরে গাছ ও পাখিদের আবাস যেন কোন ক্ষতির সম্মূখিন না হয় সেই দিকটায় আমরা লক্ষ রাখছি। বিভিন্ন সময় গাছগুলো কাটার পরিকল্পনা করা হলেও আমরা সেগুলো কাটতে দেইনি। ভবিষ্যতেও যে কোন বিষয়ে পাখিদের স্বার্থ আমরা আগে দেখবো।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ কাজী আল মামুন বলেন, বরিশালে পাখির আবাস কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন। প্রকৃতির ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত জরুরী বলে মনে করেন তিনি। আর নগরায়নের ফলে পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীবন চক্রে যেন কোন প্রভাব না পরে সেদিকে কঠোর নজরদারির কথা জানায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী।
নগর-পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি আদর্শ শহরে ২৫ শতাংশ সবুজ এলাকা থাকা প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









