দেশ জুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এতে গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। আবার শীতের কারণে উৎপাদন এলাকায় কৃষক ক্ষেত থেকে সময় ও চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছে না। যার প্রভাব পড়েছে সবজির মতো প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের সরবরাহে। এর ফলে ঢাকায় দু-তিনদিন ধরে শীতের সবজির দাম খানিকটা বেড়েছে। তবে পেঁয়াজ, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে শীতের সব সবজির দাম। ভরা মৌসুমে শুধু টমেটোই বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। অন্যান্য সবজির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। শীত মৌসুমের সব সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না ক্রেতাদের।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, হাতিরপুল, মিরপুর-১১ কাচাঁবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দাম বাড়তি দেখা গেছে।
রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড শীতে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাপমাত্রা বাড়লে কমবে সবজির দাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি শৈত্য প্রবাহ চলছে। এ ছাড়া ৫ দিনে আবহাওয়ার খুব বেশি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তীব্র শীতে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সবজির বাড়তি দাম প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম। তীব্র শীতে কৃষকরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ক্ষেত থেকে সময় ও চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছে না। যার প্রভাব পড়েছে সবজি সরবরাহে।
তবে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুল কপি মিলেছে ১৫-২৫ টাকায়। ১০-১৫ টাকা বেড়ে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুলা ৪০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতিকেজি শালগম, পেঁপে, ব্রকলি মিলছে ৩০-৫০ টাকায়। বছরের এই সময়ে টমেটোর দাম থাকে ক্রেতার নাগালের মধ্যে। তবে বাজারে পাকা, কাচাঁ ও আধাপাকা তিন ধরনের টমেটোর দাম ১০০-১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় মিলেছে পাকা টমেটো। প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়শ, পটল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১২০ টাকায়।
কাজিপাড়া বাজারে ক্রেতা আরিফ আহম্মেদ বলেন, সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। রোজা আসার আগে দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা বলেন, এই মৌসুমে পাকা টমেটোর দাম থাকে ৪০-৫০ টাকা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। ব্যবসায়ীরা বলছেন তীব্র শীতে টমেটো পাকছে না। আবার খবরে দেখি কৃষক দাম পায় না।
গত সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায়, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









