The Daily Adin Logo
প্রান্তলোক
এদিন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

একটি বিদ্যালয় হলে ৫ হাজার শিক্ষারর্থী পাবে শিক্ষার আলো

একটি বিদ্যালয় হলে ৫ হাজার শিক্ষারর্থী পাবে শিক্ষার আলো

ওরাও চায় লেখাপড়া করে শিক্ষিত হতে। কিন্তু একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভাবে লেখাপড়ায় বেশিদূর এগোতে পারেনা তারা। যার ফলে তাদের স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রায় সাড়ে ৫হাজার একরের কর্ণফুলী চা বাগান। এ বাগানে প্রায় ১৫ হাজার চা শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যুগের পর যুগ তাদের সন্তানেরা একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভাবে থেকে যাচ্ছে অশিক্ষিত।  চা জনগোষ্ঠীর শিশুদের বেড়ে ওঠাতে নেই তেমন একাডেমিক শিক্ষার ছোঁয়া। যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে এভাবেই।

জানা যায়- চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় উপজেলায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় কর্ণফুলী চা বাগান। এ বাগানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাগানের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও নেই জুনিয়র মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা ফলে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ৫ হাজার শিশু। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ঝরে পড়ছে শতাধিক শিক্ষার্থী। চা বাগান থেকে বাইরে যে উচ্চ বিদ্যালয় গুলো রয়েছে তার দূরত্ব প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার। এতদূরে হেটে যাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। এসব স্কুলে গাড়িতে করে যেতে প্রয়োজন পড়ে ৬০ টাকা গাড়ি ভাড়া। কিন্তু একজন চা শ্রমিক সারাদিন পরিশ্রম করে আয় করে মাত্র ১৮৭ টাকা। তা দিয়ে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। চা শ্রমিকদের দাবি চা বাগান কিংবা আশেপাশে একটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে উঠুক তাতে অন্তত তাদের ছেলে-মেয়েরা মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে হলে কিছু একটা করে চলতে পারবে। বিদ্যালয়ের অভাবে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই চা শ্রমিক হিসেবে অশিক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা জানায়, চা বাগান থেকে ৭কিলোমিটার দূরে লেলাং স্কুল এবং ৬ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ওখানে হেটে যাওয়া সম্ভব হয়না। ওইসব স্কুলে গাড়িতে করে যেতে প্রতিদিন ৬০-৭০ টাকা গাড়ি ভাড়া প্রয়োজন। সড়ক গুলোতে ঝোপঝাড় থাকায় এতদূর হেটে যাওয়া যেমনি অসম্ভব তেমনি ভাবে ঝুঁকি ও রয়েছে অনেক।

তারা জানায়, হাই স্কুল দূরে হওয়ায় ১ম শ্রেণী শেষে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিই হয়না। যারা ভর্তি হয় ২-১ বছর পর যাতায়াতের বাধ্য হয়ে তারাও পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। তাই চা শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে কর্ণফুলী চা বাগানে বা আশেপাশে একটি উচ্চ  দাবি জানায় সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুরা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য চিত্তরঞ্জন বলেন- আমাদের চা শ্রমিকদের কি অধিকার নেই শিক্ষিত হওয়ার? চা বাগানের আশেপাশে কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় আমাদের সন্তানেরা মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ফলে তারাও আমাদের মত চা শ্রমিক হয়ে কষ্টের জীবন কাটাবে, কেন? এ বৈষম্য কি মানা যায়? আমাদের একমাত্র দাবি এ এলাকায় একটা উচ্চ বিদ্যালয় হোক।

এদিকে এ এলাকায় বিশেষ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.