সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে স্থাপনের দাবীতে শহরে গণমিছিল, ও সমাবেশ পালন করেছে সদর উপজেলাসহ শহরে বসবাসরত জেলার অন্যান্য উপজেলার আন্দোলনরত লোকজন। এতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলকারীরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১ টা থেকে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবী জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মিছিল সহকারে শহরের ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে মিলিত হন তারা।
সমাবেশে জেলা সিপিবিরি সাবেক সভাপতি অব. অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব মুনাজ্জির হোসেন সুজন ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, সহসভাপতি লেখক সুখেন্দু সেন, শিক্ষাবিদ যোগ্বেশ্বর দাস, জেলা ‘সুজন’এর সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, পরিবেশ আন্দোলনে জেলা সভাপতি আবু নাছার আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জেলাবাসীর দাবি ছিলো উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি জেলা সদরের নিকটবর্তী কোনো অঞ্চলে স্থাপন করা হবে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করতে নিজের সরকারি পদের অপব্যবহার করে সমস্ত বড় বড় উন্নয়ন কার্যক্রম তাঁর নিজ উপজেলা ও বাড়ির নিকটবর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এতে জেলা সদরসহ অপর ১১ উপজেলাকে সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
একটি উপজেলার ছোট একটি অঞ্চলে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়টি জেলাবাসীকে বৈষম্যবোধে তাড়িত করেছে। এখন যেহেতু সব ধরনের বৈষম্যের অব ঘটিয়ে সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে, আমাদের মনে এই আশাবাদ সঞ্চারিত হয়েছে যে, এখন বঞ্চনা ও অবহেলার হাত থেকে জেলাবাসী রক্ষা পাবে।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বা নির্ধারিত দেখার হাওরটি অত্র জেলার একটি সুবিশাল হাওর। এই হাওর সদর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার বিশাল এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। এই হাওরে উৎপাদিত হয় বিপুল পরিমাণ বোরো ধান। এই হাওর মিঠা পানির মাছের বড় উৎস।
বক্তারা বলেন, দেখার হাওরে সুবিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনাদি নির্মিত হলে হাওরের প্রকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে কৃষিজ উৎপাদন ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই বিশিষ্টজন ও বিশেষজ্ঞরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখার হাওরের পরিবর্তে অন্যত্র, প্রধানত জেলা শহরের সন্নিকটে স্থাপন করার দাবী জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









