লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান চললেও হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। এখনও ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এরই মধ্যে শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। নতুন এ কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও একের পর এক আফটারশক বা অনুকম্পনে আতঙ্কে রয়েছেন দেশটির বাসিন্দারা।
রবিবার (২৮ জুন) রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করা হয়।
উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত থেকে লা গুয়াইরা এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা যাবে না। তবে কারা সেই অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যদিও সরকার দাবি করছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন,‘‘এখন প্রতিটি প্রাণ উদ্ধার করা যেন অলৌকিক ঘটনার মতো। এই বিপর্যয়ের প্রকৃত ভয়াবহতা আমরা আড়াল করব না।’’
এদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক এলাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। তাদের কান্না, উৎকণ্ঠা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ভেনেজুয়াজুড়ে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









