হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই ওমানকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মে মাসেও দেশটিকে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ওমান কোনোভাবে বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করব।” এর আগে গত মে মাসেও তিনি ওমানকে ‘ঠিক পথে না চললে’ দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন।
হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় অচল হয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ও ওমান
এদিকে হরমুজ প্রণালির সংকট নিরসনে ইরান ও ওমানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সোমবার শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তার ভাষায়, ইরান অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ মেনে বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে চলে যেতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আলোচনায় সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।
তেহরান আরও বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যাপক ও গুরুতর লঙ্ঘনের’ কারণে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকও কার্যত গুরুত্ব হারিয়েছে।
হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড করার হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প
শুক্রবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র এক সাংবাদিককে জানান, ট্রাম্পের ওই মন্তব্য ছিল রসিকতা। তবে ইরানি কর্মকর্তারা মন্তব্যটিকে ভিত্তিহীন দাবি ও ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগেও মে মাসে ওমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ওমানকে অন্য সবার মতো আচরণ করতে হবে, না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ট্রাম্প একই সঙ্গে ওমানসহ অন্যান্য দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ওমান
হরমুজ সংকটে ওমানের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও শান্তি আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজছে। আলোচনায় প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি স্বেচ্ছামূলক ফি নির্ধারণের প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলারও শিকার হয়েছে ওমান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় মার্কিন বাহিনী ওমানের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন হুমকি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না; এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানের সঙ্গেও সম্পর্ককে নতুন চাপের মুখে ফেলতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









