ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানেজ। তবে তিনি বলেছেন, শুধু বসতি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিলেই হবে না; ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে যুক্তরাজ্যকে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষের’ অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি উল্লেখ করেননি যে মিলিব্যান্ড নিজেই ইহুদি।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মিলিব্যান্ডের বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেছে, গাজায় ওষুধ প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং কোনো ওষুধ আটকে দেওয়া হচ্ছে না।
দ্য গার্ডিয়ানকে আলবানেজ বলেন, বসতি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে এর প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হবে ঘোষণার চেয়ে বাস্তবে এর কী প্রভাব পড়ছে, তা দিয়ে।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপকে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হতে হবে। ওই মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে অবৈধ বলা হয় এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোকে সেই পরিস্থিতিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া ও তা বজায় রাখতে সহায়তা না করার দায়িত্বের কথা বলা হয়।
আলবানেজের মতে, নিষেধাজ্ঞা শুধু কৃষিপণ্য ও প্রসাধনীর মতো বসতি-উৎপাদিত পণ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কারণ এসব পণ্য ইসরায়েলি দখলদারত্বকে টিকিয়ে রাখা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটি ছোট অংশ মাত্র।
তিনি যুক্তরাজ্যকে ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা ধীরে ধীরে বন্ধ করা, সব অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করা এবং সাইপ্রাসের আরএএফ আকরোতিরি ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলমুখী ফ্লাইটের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন আলবানেজ। তার মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেম পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, বীমা ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা বা অনুরূপ ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
আলবানেজ আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলসংক্রান্ত মামলাগুলোতে যুক্তরাজ্যের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকর্তা, বিচারক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ না করতে হয়, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
ফ্রান্সেসকা আলবানেজ সতর্কবার্তা হল—শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই যুক্তরাজ্যের নীতিগত পরিবর্তনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









