ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবেন না।
এর আগে ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে দেশটির দুই নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার প্রশ্ন তুলেছেন বা উদ্বেগ জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভারতের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলে এবং প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন করে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক।
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার সময় বিভিন্ন মত ও পর্যবেক্ষণ উঠে আসা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ ধরনের মতপার্থক্য থাকতেই পারে।
এদিকে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শুক্রবার দেশজুড়ে রাজ্য নির্বাচন দপ্তরগুলোর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলটি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার, পদ থেকে অপসারণ এবং তার সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা পরিবর্তনের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিজেপিকে সুবিধা দিতে যাচাই ছাড়াই নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর দাবির বাইরে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বা কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘স্বৈরাচারীভাবে’ পরিচালিত হচ্ছে না; প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিকভাবেই কাজ করছে।
জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে ভারতের তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান। তিনি সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এর আগে জুলাইয়ে তরুণদের বিক্ষোভে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ওই আন্দোলনের পর পরীক্ষা-প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
নতুন করে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং ‘ককরোচ’ আন্দোলনের আলটিমেটামের ফলে ভারতে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









