আসামে একটি আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবক সভাকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ৩০ জনের বেশি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির চার সদস্যও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দলটি। এ ঘটনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে সতর্ক করে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, রাঙ্কাসহ অন্য কর্মীদের মুক্তি না দিলে তিনি দলের সদস্যদের নিয়ে আসামে যাবেন।
রবিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, ‘‘আশুকে (আশুতোষ রাঙ্কা) আসাম পুলিশ একটি ব্যক্তিগত বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তাকে এখনো জানানো হয়নি, কোন অভিযোগে বা কী কারণে আটক করা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আশুকে মুক্তি না দিলে আমি সিজেপি’র অন্য সদস্যদের নিয়ে আসামে যাব। হিমন্ত চাইলে আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।’’
সভা ঘিরে আটক
সিজেপি’র দাবি, রবিবার গুয়াহাটিতে দলের নির্ধারিত আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবক সভার আগে ৩০ জনের বেশি কর্মীকে আটক করা হয়। দলের সহ-আহ্বায়ক রাঙ্কাও তাদের মধ্যে রয়েছেন।
আটকের আগে রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই পুলিশ তাদের সভা করতে বাধা দিচ্ছিল। তার দাবি, একটি ব্যক্তিগত জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে সভা আয়োজন করা হলেও পুলিশ একের পর এক দলের সদস্যকে আটক করে।
সভাটি প্রথমে সকাল ১০টায় আথগাঁওয়ের খার্গা চৌধুরী রোডে অবস্থিত আসাম শ্রী পরশুরাম সেবা সদনে হওয়ার কথা ছিল। পরে আয়োজকেরা অভিযোগ করেন, ওই ভেন্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে বুকিং বাতিল করা হয়েছে। এরপর সভার স্থান পরিবর্তন করে আসাম সচিবালয়ের বিপরীতে চৌধুরী টিলায় নেওয়া হয়।
রাঙ্কা শনিবার দলের সদস্য অঙ্কিত ভরদ্বাজ, আকাশ প্রেম, বরুণ আগরওয়াল ও আনামের সঙ্গে গুয়াহাটিতে পৌঁছান।
আটকের আগে রাঙ্কা অভিযোগ করেন, রাজ্যের স্কুলসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে সিজেপি’কে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে আসাম সরকার।
এই আটক প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আটক সদস্যদের মুক্তির দাবি সিজেপি’র
পরে এক বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, এই ‘লক্ষ্যভিত্তিক দমননীতি’ সত্ত্বেও তারা আসামে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আজকের এই লক্ষ্যভিত্তিক দমননীতি সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টি আসামের জনগণের প্রতি তার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। দলের তৃণমূল স্তরের কাজ যেমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ঠিক তেমনই এগিয়ে যাবে—বিশেষত ‘স্কুল ঠিক করো’ শিক্ষা কর্মসূচি এবং নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধনে (স্পেশাল রিভিশন) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি নিবেদিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে।”
দলটি রাংকা ও আটক হওয়া সব স্বেচ্ছাসেবকের ‘অবিলম্বে ও শর্তহীন মুক্তি’র দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশি অবরোধ এবং মূল সভাস্থলের বুকিং জোর করে বাতিল করানোর অভিযোগ নিয়ে আসাম প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে সিজেপি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন








