আলোর ফেরিওয়ালা পলান সরকার। ২০১৯ সালের ১ মার্চ, ৯৮ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর হাতে ছড়িয়ে দেওয়া বইয়ের আলো আজও জাজ্বল্যমান রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে।
১৯২১ সালের ১ আগস্ট নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে মায়ের স্নেহভরা ডাকনাম ‘পলান’ নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন সবার কাছে। ব্রিটিশ আমলে যাত্রাদলে যোগ দিয়ে জীবনের প্রথম অধ্যায় শুরু হলেও, পরবর্তীতে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন শিক্ষা বিস্তারে।
১৯৬৫ সালে নিজের ৫২ শতাংশ জমি দান করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়। শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল গভীর ও আন্তরিক। ১৯৯০ সাল থেকে বিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় থাকা প্রথম ১০ জন শিক্ষার্থীকে বই উপহার দেওয়া শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে অন্য শিক্ষার্থীরাও বইয়ের দাবি জানালে তিনি সবার জন্য বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে একটি শর্তে: পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে।
সেই শর্ত থেকেই শুরু হয় এক অনন্য বইবিলির অভিযান। নিজের টাকায় বই কিনে তিনি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন। আবার পড়া শেষে বই সংগ্রহ করতে গিয়ে নতুন বই দিয়ে আসতেন। টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই তিনি বইয়ের আলো পৌঁছে দিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামে। গড়ে তুলেছেন বই পড়ার এক নীরব, অথচ গভীর সামাজিক আন্দোলন।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে তিনি লাভ করেন একুশে পদক।
পলান সরকার প্রমাণ করে গেছেন আলো ছড়াতে বড় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন একটি আলোকিত মন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি। যিনি বইকে বানিয়েছিলেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী সেই নিভৃতচারী জ্ঞানসাধকের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









