রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার সন্ধ্যার পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হওয়া ৪১টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি। শরীক দলের নেতারাও প্রাণ খুলে বক্তব্য রাখেন।
সরকার গঠনের পর শরিক নেতাদের সঙ্গে এটাই তার প্রথম এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনার অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। কুশল বিনিময় পর্বের পর নেতাদের নিয়ে নৈশভোজে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তারপর শরীক নেতারা। কী হথা হলো তাদের মধ্যে?
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, ‘বেশ অনেক দিন পর আপনাদের সঙ্গে আজকে দেখা হলো। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সফল হয়েছি। মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার যে দাবি নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছিলাম, সেই অধিকার নিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বাংলাদেশের মানুষ তাদের রায় দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’
তিনি বলেন, “অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে আমরা বাংলাদেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। আমরা যখন এটি দিয়েছিলাম, তখন অন্য অনেক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে সংস্কারের ‘স’ বলতেও দেখিনি, যারা পরে সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। কিন্তু আজকে এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি, আমরাই তখন স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।”
নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার ‘পক্ষে’ রায় দিয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন এটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে।’
‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, তবে ‘কোনো বিভেদ নেই’বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গেই থাকব। আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি বলেন, ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা এবং জুলাই সনদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, ৩১ দফার আলোকে হোক, জুলাই সনদের আলোকে হোক আমরা ইনশআল্লাহ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করব, কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের ওপর। জনগণ প্রত্যাশা নিয়েই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি; তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।’
‘গুপ্তরা আন্দোলনে ছিল না’
আওয়ামী লীগের সময় রাজপথের আন্দোলনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “আজকে অনেকেই দাবি করে, কারো নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না, যাদেরকে একটি শব্দ ‘গুপ্ত’বললেই মানুষ চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদেরকে আমরা পাইনি। আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদেরকে? তাদেরকে কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি।” তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা এ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে। শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি, কিন্তু গত ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। কাজেই দেশের মানুষ আমাদের ওপরেই আস্থা রেখেছে, আমরাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
‘গুপ্ত বাহিনী’র তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, (২০২৪ সালের) ৫ অগাস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং এর আগে তারা কীভাবে স্বৈরাচারী কায়দায়, ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের কাজ চালিয়েছিল, তা আপনাদের স্পষ্ট মনে আছে। তারা বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেলে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করে। ১২ তারিখের নির্বাচনেও তারা সেটিই করেছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে সেই সাবেক উপদেষ্টার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন যে, ‘তারা ১৮ মাসের মত দেশ পরিচালনা করেছেন, এই সময়ে তারা কতটা অসহায়ের মত ছিলেন। তিনি বলেছেন, সরকারে ৬০ শতাংশের বেশি সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারা হয়ে বক্তব্য রাখতে দেখেছি। তারা এখনো পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছে। ওই উপদেষ্টার বক্তব্য হল, এরা দিশাহারা হয়ে গেছে। ১৮ মাস তারা পুরো ব্যবস্থাকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ১২ তারিখে জনগণ রায় দেওয়ার পর থেকে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬-১৭ বছরে রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, শিক্ষাব্যবস্থা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলার কথা বলেন।
‘ফেয়ারওয়েল ডিনার কেন হবে?’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। এত বড় সমস্যা, দুই কোটি মানুষের এই ঢাকা শহর এখন পরিষ্কার করাই একটা সমস্যা, যেদিকে তাকাবেন ময়লা। কেউ একজন বলেছেন, এটা ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না? কেন ফেয়ারওয়েল হবে! ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয়, গুপ্ত-সুপ্তদের বা স্বৈরাচারকে দিতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম, আমরা ইনশাআল্লাহ একসঙ্গেই থাকব।’
‘দুঃখ’ প্রকাশ
শরিক নেতাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দিন বসার সুযোগ হয়নি, তাই এ আয়োজন। মুরুব্বিরা যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমি মোটেও দ্বিমত করব না। তাদের মনে যে কষ্টের কথাগুলো আছে, তা স্বাভাবিক। তারা বয়সে আমার চেয়ে বড়; ছোট ভাই হিসেবে আমি তাদের সব বিষয় মেনে নিচ্ছি এবং দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না ভাই বলেছেন যে, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমি শুধু এতটুকুই অনুরোধ করব, আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আসুন, সকলে মিলে আগে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করি।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম। শরিক নেতাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু। প্রধানমন্ত্রী বুফেতে দাঁড়িয়ে অন্য সবার সঙ্গে খাবার নেন এবং শরিক নেতাদের সঙ্গে একটি টেবিলে বসে খাবার খান। নাগরিক ঐক্যের মাহবুবুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ওই টেবিলে ছিলেন।
শরীকদের তরফে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে তারেক রহমানের বাইরে ‘এই মুহূর্তে’ কোনো বিকল্প দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তারেক রহমানের সঙ্গে অতীতে হওয়া কথোপকথন তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আজকের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হননি, তখন তাকে একদিন বলেছিলাম, ‘আপনার সুযোগ আছে মাহাথির মোহাম্মদ হওয়ার, আপনার সুযোগ আছে কামাল আতার্তুক হওয়ার এবং নিশ্চয় সেরকম একটা জিনিস আপনি চেষ্টা করবেন। আমি আজও তাই চাই। এ কারণে চাই যে, এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে আমি বিকল্প কিছু দেখতে পাচ্ছি না।’নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে মান্না বলেন, ‘আমি চাই, এই সরকার ভালো করুক। মাত্র পাঁচ মাস বয়স হয়েছে সরকারের। এখনই ঠিক পুরোপুরি বলা যাবে না এবং আমি মনে করি যে এটা ঠিক ওই অনুষ্ঠানও নয়, যেখানে সমালোচনা-আত্মসমালোচনা করব এখানে। আমি বলতে চাই ,আপনারা ব্যর্থ হলে, আমি ব্যর্থ হব, দেশ ব্যর্থ হবে, সবাই ব্যর্থ হবে।’মান্না বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭৬। আমি জানি এটা বললে একটু বেয়াদবির মত…। আমার চাইতে বয়স্ক যারা, তারা অনেকেই আছেন। কিন্তু অনেকগুলো বছর ধরে যে রাজনীতি করি, একটা স্বপ্ন হচ্ছে, সেইরকম একটা দেশ করতে চাই, যে দেশ শামসুর রহমানের কবিতার মত— একটা ফুলের বাগান হবে এবং খুব সহজে সেই ফুলের কাছে যেতে পারব; খুব সহজে ঘাসের উপর শুয়ে যেরকম এখানে আছি পায়ের উপর পা দিয়ে… অকারণে মাঝে মাঝে পা নাড়ব, রিলাক্স একটা লাইফ, রিলাক্স একটা দেশ। আমার নিজেকে নিয়ে আমি সামনে একটা স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেখতে পাচ্ছি, সেই রকম কিছু।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি নিজেই এত বড় একটা দল, আমি জানি, তার মধ্যে অনেকেই আছেন মন্ত্রী হবার মতো, দেশ পরিচালনা করবার মতো। সবাই তো আর মন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি, সবাই তো আর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাননি। কিন্তু এই দায়িত্ব এই অধিকার যেন আমার থাকে। কোনো ভুল হলে ভুল বলতে পারি এবং ভুল বলবার কারণে যেন আমাকে ভুল বোঝা না হয় এবং তার জন্য যেন দায়ী করা না হয়। গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে যেখানে সমালোচনা করা যায়, অকপটে নিজের কথা বলা যায়। এখন পর্যন্ত এই পাঁচ মাসে এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে, এটা অব্যাহত থাকবে এইটা আমি চাই।’
একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানর নিজের কর্মকান্ডের মাধ্যমে নতুন নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খুবই বিনয়ের সঙ্গে বলছি, বর্তমান সরকার দেশ চালাচ্ছেন, বর্তমান সরকারের যিনি প্রধান, তিনিসহ সবাই নতুন নতুন উদাহরণ তৈরি করবার চেষ্টা করছেন। আগের যে সমস্ত খারাপ উদাহরণ ছিল, সেগুলো ভেঙে ফেলবার চেষ্টা করছেন এবং নতুন করে সবার মধ্যে আশা জাগাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমার এই কথা বলার মানে এই নয়, এর মধ্যে কোনো প্রশ্ন নেই, এর মধ্যে কোন ভুলের অবকাশ নেই । এমন নয় যে পা পিছলে পড়ে যেতে পারেন না। কিন্তু সজাগ থাকতে হবে যেন পা পিছলে না যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ কামনা করি সুস্বাস্থ্য কামনা করি এবং তার সাফল্য কামনা করি।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপি এবং তারেক রহমানের সামনে যে ঐতিহাসিক সময়টা দিয়েছে, এই ভূমিকাটা পালন করবার, এই মুহূর্তে অন্য কোনো ব্যক্তি নাই। এটা তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিপরিষদ, তার সরকার, তারা প্রজ্ঞা দূরদর্শিতা বুদ্ধিমত্তার সাথে সবাইকে নিয়ে চলতে পারার যে রাজনৈতিক শৈলী, তারা যদি এটা অর্জন করতে পারেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ আছে, আমাদের যুগপথ আন্দোলনের শরিকদের, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে যে অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নসু ভাই, তিনি গুলশান অফিস থেকে আমাদেরকে আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) দাওয়াতের কথাটা মনে করিয়ে দিয়েছেন। আপনার ক্যাবিনেটের কোনো মন্ত্রীর অথবা দুর্দিনে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিলেন, তাদের কোনো সময় হয়নি শীর্ষ নেতাদের হ্যালো বলার, কথা বলার, বা আপনার আমন্ত্রণ পৌঁছিয়ে দেওয়ার। এটা মর্যাদার প্রশ্ন, সন্মানের প্রশ্ন, এটা সবাইকে একুমেডেটেড করার প্রশ্ন। একসঙ্গে চলতে গেলে এই মর্যাদা বোধটা আমাদের লাগবে। এই মর্যাদাবোধটা ছাড়া আমরা কিন্তু এগোতে পারব না।’
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে এই সরকারের অনেক অর্জন। সবচেয়ে বেশি ভালো অর্জন হয়েছে হজ নিয়ে। ৫০ বছরের মধ্যে কোনো অভিযোগ ছাড়া এবার প্রথম হজ আদায় হয়েছে।’
গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি কান্ডারি হয়ে গেছে, আমরা এখন ফুটপাতে বসে গেছি। আমরা মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। অনেক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমাদেরকে দাওয়াত পর্যন্ত দেওয়া হয় না। আমাদের নেতাকর্মীদের কোথাও কোনো মূল্যায়ন নাই। কেন্দ্রীয়ভাবেও নাই, জেলাতেও নাই। এই যে দূরত্বটা সৃষ্টি হলো, কেন হলো?’
অনুষ্ঠানে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘২০০৬ সাল যখন থেকে ‘ফ্যাসিবাদি’ দৌরাত্ম আরম্ভ হয়েছিল, গত ২০ বছর, আজকে এখানে অনেকে আছেন, আবার অনেকে নেই। আবার অনেক হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা জীবন দিয়েছেন… এই সবকিছু মিলিত হয়েই আজকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ হয়েছি। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারাই শহীদ হয়েছেন, যারাই ছিলেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছি।’
বিএনপি মহাসচিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









