আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থিতার যোগ্যতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুসারে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং ব্যাংক ঋণের জামিনদাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, ব্যাংকঋণের জামিনদারদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়ে কমিশন নীতিগতভাবে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে কয়েকটি সংশোধনীর প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্তও হয়েছে।
ইসির সচিব জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন ও অনুমোদনের পর এসব নতুন বিধান কার্যকর হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতার ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধ যুক্ত হবে।
এর আগে সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, তাহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইসির সহকারী জনসংযোগ পরিচালক আশাদুল হক জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সংশোধনী আনতে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধির সংশোধনীও অনুমোদন করা হয়।
এ বছরের অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংস্কারের কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে, এরপর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে ইসির এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে 'এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট' দাবি করেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা না দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার সীমিত করা হলে শিক্ষক সমাজে ‘অসন্তোষ’ তৈরি হবে।
বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখেরও বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার; মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ২২ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









