দ্রব্যমূল্য কমলেই মূল্যস্ফীতি কমে। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্টোচিত্র, নিত্যপণ্যের দাম কমেনি। মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ। বাজারে নিত্যপণ্যের দামে চড়া ভাব যেন কমছেই না। পাশাপাশি কয়েক দফা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্যমূল্যে। এতে সাধারণ মানুষের মাসের বাজেট টেনেটুনে নেওয়া যাচ্ছে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। তাই প্রশ্ন উঠেছে সরকারি পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির হিসাব নিয়ে। সরকার যে হিসাব দেয়, সেই হিসাব কতটা বাস্তবভিত্তিক? নাকি সরকারের দেওয়া মূল্যস্ফীতির এই হিসাবের পুরোটাই শুভঙ্করী ফাঁক! ক্রেতারা বলছেন, সরকার মূল্যস্ফীতি কমার যে হিসাব দিচ্ছে তা প্রতিফলন নয়। তারা জুনে মূল্যস্ফীতি কমার হিসাব দিচ্ছে কিন্তু তখন জিনিসপত্রের দাম চড়া ছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে শাকসবজি, কাঁচামরিচ, চাল, মাংস, মাছের দাম বেড়েছে। তাই সাধারণ মানুষের চোখে সরকারের দেওয়া মূল্যস্ফীতির হিসাব অনেকটা ‘মূল্যহীন চোথা’।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের হিসাবে দেশে গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর আগে মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। যদিও তাদের দাবি এ সময়ে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় কমেছে। তবে গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতির এসব তথ্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এ হারের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা বলছেন বিবিএসের তথ্যে বাজারে পণ্যমূল্যের যে অবস্থা তার প্রতিফলন ঘটেনি। এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়াটা দেশের বাস্তবতায় বিস্ময়কর ব্যাপার।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এ এস এম নাজের হোসেন দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘বিবিএস সরকারকে খুশি করার জন্য হয়তো এ রকম তথ্য দেয়। কোথা থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করে আমরা জানি না। কারণ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেই তথ্যের মিল নেই। টিসিবি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন যে দামের তালিকা দেয় তাদের এক প্রতিষ্ঠানের দামের সাথে আরেক প্রতিষ্ঠানের দামের তালিকা মেলে না।’ তার কথা, ‘সরকার হয়তো পাইকারি বাজারে একটা দাম ঠিক করে দিয়ে বলে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে তো সেটা কেউ মানে না। পণ্যের দাম পাইকারি বাজারে কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে তো কমেনি। তাই বিবিএস যে হিসাব দেয় তা বাস্তবভিত্তিক নয়।’
তাদের হিসাবের সাথে বিআইডিএস, সিপিডি, সানেমসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ক্যাবের সহ-সভাপতি আরো বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিযোগিতা নেই। কিছু অসাধু বিক্রেতা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে নাজেহাল করে তুলছেন। দেখার জন্য যারা আছেন, তারাও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এদিনকে বলছেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কম ধরে রাখার একটি প্রবণতা আছে। এখানে যখন খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেশি হয় তখন খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কম দেখানো হয়। আবার খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেশি দেখাতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কম দেখানো হয়। এভাবে একটা গড়পড়তা জায়গায় মূল্যস্ফীতি দেখানো হয়। কিন্তু তার পরও জুনে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কমা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর মতে- যেভাবে বাজারের গড় করে বিবিএস মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করে সেটি যৌক্তিক নয়। কারণ বাজারে সব ক্রেতা সব ধরনের পণ্য কেনে না। মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর আগে একই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম খান এদিনকে বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এখনো মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হচ্ছে। এটা আসলে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই সময়ের মধ্যে খাদ্যপণ্যসহ অনেক পণ্যের ধরন পরিবর্তন হয়েছে তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন আছে। খাদ্যের বাইরে যেসব বিবেচনায় নেয়া হয় তার মূল্য বিবেচনা নিয়ে অনেক বড় ত্রুটি আছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মজুরির কী হচ্ছে তাও কিন্তু স্পষ্ট নয়। সেটাও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে প্রকাশ পায়। কিন্তু বহুদিন ধরে, এমনকি করোনার সময়েও এটা শতকরা ৬ ভাগের কাছাকাছি আছে। এখানে যে মূল্যস্ফীতির হিসাব তা গড়পড়তা, এটা দিয়ে গরিব মানুষ কতটা চাপে আছে সেটা বোঝা যায় না।’
তার মতে, এমনকি টিসিবির যে হিসাব তার সঙ্গেও এর মিল নেই। তাই মূল্যস্ফীতি হিসাবের সংস্কার প্রয়োজন। সেটা করা হলে বাস্তব চিত্র পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাউজহোল্ড ইনকাম ও এক্সপেনডিচার জরিপও করা হয়নি অনেক দিন ধরে। ওটার ওপর নির্ভর করেই ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়। ফলে এখানে মূল্যস্ফীতির ভিত্তি বছরও পরিবর্তন করা যায় না। প্রকৃত চিত্রও পাওয়া যায় না।’ তার কথা, ‘আমাদের বিবেচনায় এখন মূল্যস্ফীতি বিবিএসের হিসাবের চেয়ে বেশি। এটা শতকরা ১১-১২ ভাগও হতে পারে।’
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এদিনকে বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপে সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীদের প্রণোদনা দেওয়ায় তাদের একটু হলেও স্বস্তি হবে। কিন্তু বাকি জনগণের কী হবে? কারণ বাজারে সবাই যায়। তাই সরকারের উচিত হবে, দেশের সব মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি কমানোর ব্যবস্থা করা। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা। টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বেশি করে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।
মিরপুরের বাসিন্দা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘চালের দাম কমেনি। কমেনি মাছ-মাংসের দাম। ডিমের দামও বাড়তি। সরকার কোথা থেকে দাম কম দেখে আমি তা জানি না। আমার মনে হয় যারা এটা করেন তারা বাজারে যান না। অফিসে এসি রুমে বসেই জরিপ করেন।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা। তিনি বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই সবকিছুর দাম বাড়তি। চাল, ডাল, আটা কিংবা তেল-মাছ-মাংস, ডিম কোনটার দাম কমেছে গত মাসে? বরং আগের মাসের চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে আমার। অর্থাৎ গ্রাহকদের মন্তব্য অনুযায়ী বাজারে জুন ও জুলাই মাসেও খাদ্যমূল্য ছিল বাড়তির দিকে।
সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার অজুহাতে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে কাঁচামরিচের দাম। সপ্তাহখানেক আগে যে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, সেটি এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় সব ধরনের শাক-সবজি, ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে চরম চাপের মুখে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নয়াবাজার, মালিবাগ ও শান্তিনগর বাজারে একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার অজুহাতে প্রায় সব ধরনের শাক-সবজির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী।
বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ধুন্দল ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শিম ৩২০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া, মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৭০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা এবং কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘মরিচের ক্ষেতে পানি উঠলে বা টানা বৃষ্টি হলে ফসল রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। অনেক মরিচ পচে গেছে। যা আছে, তা নিয়েই সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণেই মরিচের দাম এত বেশি। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কিছুদিন পর আবার দাম কমে আসতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও আমরা ১২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছি। তারও কয়েক দিন আগে বিক্রি করেছি ৮০ টাকা কেজিতে। দুই-তিন দিন আগে দাম হয়েছিল ২৪০ টাকা, আর আজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি। টানা বৃষ্টির কারণে শুধু মরিচ নয়, সবজির বাজারেও একই অবস্থা।’
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত দুই-তিন দিনে মরিচের বাজারের চেহারা বদলে গেছে। কয়েকদিন আগেই মরিচ কিনেছে ২০০ টাকা কেজি হিসেবে। আজ এসে শুনি ৩৫০ টাকা দাম। এটা তো ডাকাতি। বিক্রেতারা বৃষ্টির কথা বলছেন, সেটা না হয় মানলাম। তাই বলে ৩৫০ টাকা কেজি?’
রাজধানীর বাজারে মাংস ও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, আর ডিম ১৩০ টাকা ডজন। পাঙাশ মাছের দামও ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৯০০ থেকে ১৪০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৫০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের চাষের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিক বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘এ সপ্তাহে চাষের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে মাছ কম আসছে। এ কারণে কিছু মাছের দাম বেশি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা বিক্রি করছি। পাঙাশ ২২০ টাকা। তবে মরে গেলে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ব্রয়লার মুরগি কিনেছেন আলমগীর ও তার স্ত্রী। তারা জানান, ব্রয়লার ১৯০ টাকা কেজি কিনেছেন। গত মাসে মুরগির দাম কম ছিল। এখন কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেশি মনে হচ্ছে। মাছ ও মাংসের দাম নিয়ে ওবায়েদুল হক নামে এক ক্রেতা বলেন, আমরা কী খাবো? সব কিছুর দাম তো বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে বেড়েছে সবজির দাম। মাছ-মাংস ও ডিমের দামও বেড়েছে। দাম বাড়লেও আমাদের খেতে হবে।
তথ্যমতে, সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াই হলো মূল্যস্ফীতি। অর্থাৎ বেশি টাকা দিয়ে এখন পণ্য বা সেবা কিনতে হচ্ছে। মূল্যাস্ফীতির কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদদের একটি ব্যখ্যা হলো, বাজারে যখন মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায়, কিন্তু পণ্য বা সেবার পরিমাণ একই থাকে তখনই মূল্যস্ফীতি হয়। আর এই মুদ্রাস্ফীতির ফলেই মূল্যস্ফীতি হয়ে থাকে। এর মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে সরকার। ফলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি হলেও সরকারি সুবিধার আওতায় চাকরিজীবীর সংখ্যা মাত্র সাড়ে ১৪ লাখ। অর্থাৎ বড় অংশের মানুষের আয় বাড়ছে না। হিসাব পালটাচ্ছে শুধু সরকারি কর্মকর্তার। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব তথা মূল্যস্ফীতির বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে পড়ছে।
এদিকে রোজার ঈদে একদফা পণ্যের দাম বেড়েছিল। পরে কুরবানির ঈদ ঘিরে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছিল। কিন্তু বাজারে এসব পণ্যের কোনো সংকট না থাকলেও এগুলোর আর দাম কমেনি। এতে নিম্নবিত্ত ছাড়াও মধ্যবিত্তদেরও নাভিশ্বাস বেড়েছে। আর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অনেকে এখন সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মাছ-মাংস পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। গরিবের জন্য বাজার করা এখন সবচেয়ে কষ্ট আর হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ভেবেছিলেন কুরবানি ঈদের পর পণ্যের দাম কিছুটা কমবে, তাদের সেই আশাও পূরণ হয়নি। বরং ক্রেতারা বাজারে গিয়ে চরমভাবে হতাশ হচ্ছেন।
জুনে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনো স্বস্তি আসেনি। কারণ ধারাবাহিকভাবে তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ এখনো কাটেনি। বরং সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জুন-২০২৬ মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুনে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আগের মে-তে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি দশমিক ২৬ শতাংশ কমলেও তা এখনো ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। ফলে ১৪ লাখ কর্মকর্তা সুবিধা পাবে। তারা নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারবেন। কিন্তু অন্যদের জন্য কোনো সুখবর নেই। বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে এই অবস্থা থেকে তাদের বের করে আনতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









