দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই মাস থেকেই বাড়ছে। তবে আগস্টের ২০ দিনেই জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একসময় সাধারণত ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা গেলেও এ বছর ঢাকার বাইরের পাঁচটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মারা যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুসারে, চলতি মাসে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১ হাজার ৭১২ জন মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ও ২২ জন মারা গেছেন। এর আগে জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নয় হাজার ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, মাসওয়ারি আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছাড়িয়েছে চলতি মাসের ১৯ দিনেই। এর আগে গত জুন মাসে প্রাণ গেছে ১৩ জনের, আক্রান্ত হন দুই হাজার ৯০৭ জন।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৭ জন মারা গেছেন। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ২২ জন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত আরো একজন মারা গেছেন এবং ৭৫০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে মারা যাওয়া একজন নারী খুলনা বিভাগের। এ বছর মারা যাওয়া ৭৭ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার। এরপর খুলনা বিভাগে ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১০ জন, বরিশাল বিভাগে আটজন, ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং সিলেট, রংপুর ও সিটি করপোরেশন বাদে ঢাকা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন রোগটিতে।
অন্যদিকে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৫০ জনের মধ্যে ৪৬৮ জন বা ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ২৮২ জন বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তরের ৬১ জন ও দক্ষিণের ৪৭ জন এবং সিটি করপোরেশন বাদে ঢাকা বিভাগের ১২২ রয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৭৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ জন, রংপুর বিভাগে ১৪ জন ও সিলেট বিভাগে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ৬৫৯ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৫ হাজার ৩৩ জন। ৭৭ জনের মৃত্যুর পর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক হাজার ৯১২ জন।
মশাবাহিত এই রোগটিতে চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ২৭ হাজার ২২ জন রোগীর মধ্যে ১৬ হাজার ৭০১ জন বা ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ ও ১০ হাজার ৩১৬ জন বা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী। এই বছর মারা যাওয়া ৭৭ জনের মধ্যে ৩২ জন বা ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৫ জন বা ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। সারা দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজারের মতো।
ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ৫ জেলা
অন্য বছরের মতো ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর মূলত রাজধানী ঢাকা-কেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে হটস্পটে পরিণত হয়েছে পাঁচটি জেলা- খুলনা, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর। এদিকে, কোন কোন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সামনে পরিস্থিতি কোথায় বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা সামনে আরও বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
জনস্বাস্থ্য ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বলেন, তারা হিসেব করেছিলেন, এ বছর উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে বরগুনা, ঝালকাঠী ও পিরোজপুরে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার ডিম পাড়া ও লার্ভা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব। কিন্তু কিছু এলাকায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা করা হলেও সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়নি। গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপের ক্ষেত্রে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ডা. মুশতাক।
তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ওই এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ব্যক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। সেখানের পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন। ময়মনসিংহের ক্ষেত্রেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড় চট্টগ্রাম বিভাগে। ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে এবার চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম পাহাড়ি বা গাছপালাযুক্ত এলাকা হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেখানে। কিন্তু ডেঙ্গুর বিস্তারের মূল কারণ সেটি নয়। ডা. মুশতাক বলেন, ‘চট্টগ্রাম আর ঢাকা একই রকম। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যখন সেটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়, তখনই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।’
কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও যেসব এলাকার পানিতে আর্সেনিক বেশি, ওই সব এলাকায়ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় মানুষ অনেক সময় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পানি সংরক্ষণ করা হলে সেসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাত হাজার ১১৪ জন রোগী। আক্রান্ত ও মৃ্ত্যুর হিসাবে ঢাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে খুলনা জেলায়। এই জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭৩৮ জন।
মৃ্ত্যুর দিক থেকেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খুলনা জেলা, যেখানে এই রোগে মারা গেছেন ১৫ জন। এরপরই হলো চট্টগ্রাম জেলা, সেখানে আক্রান্ত এক হাজার ৪২০ জন, মারা গেছেন তিনজন। তৃতীয় অবস্থানে বরিশালের পিরোজপুর। সেখানে এ বছর এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন এক জন। আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে আছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে ৯৬৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ছয় জন। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে এখন পর্যন্ত ৭২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সেখানে কারও মৃত্যু হয়নি। এই বিভাগে শুধু ঢাকার মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।
হাম ও উপসর্গে বেশি সংক্রমণ ঢাকায়
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। পরে ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর তথ্য দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত ১৫৮ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ও আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৮৬৩ জন শিশু। সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ৯৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৮ জন, খুলনা বিভাগে ৩২ জন ও রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সারা দেশে মারা গেছে আরও তিনজন শিশু। নতুন করে রোগটি শনাক্তসহ আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭২ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হাম ও ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগটির উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৫ জনে, যা অন্তত তিন দশকের ইতিহাসে বিরল। তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত ছিল ৯৯ জন আর সন্দেহজনক হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বাকি ৮২৬ জন। এতে পাঁচ মাসে দেশে রোগটিতে শনাক্তসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৯ জনে। ২৬ জুন হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ৭০০ জন, ২২ জুলাই ৮০০ জন ও ১৫ আগস্ট ৯০০ জন ছাড়ায়। আর আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়ায় ৬ আগস্ট, এর মাত্র দশ দিনের মাথায় এক লাখ ৬০ হাজার ছাড়ায় গত রবিবার। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছে বা যাদের মৃত্যু হচ্ছে, তাদের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে হামের বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিনজন শিশুর দুজন ঢাকা এবং অন্যজন সিলেট বিভাগের। এ সময়ে রোগটির উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরো এক হাজার ৪ জন শিশু, যাদের ৯৫০ জনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জন শিশুর শরীরে। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটির উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনে আর ১৮ হাজার ১৪৪ জন শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৭৯ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এক লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন, যাদের এক লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। গত বছর মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০ জন, ২০৩ জন, ৩১১ জন, ২৮১ জন ও ২৪৭ জন। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









