কাগজে-কলমে আঞ্চলিক সড়ক থেকে জাতীয় মহাসড়কের মর্যাদা মিললেও পরিকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আসেনি ঝালকাঠির সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়। দীর্ঘ প্রায় ১০০ কিলোমিটারের এই মহাসড়কে সময়োপযোগী কোনো আধুনিকায়ন হয়নি, বাড়ানো হয়নি সড়কের প্রশস্ততাও। পুরোনো ও সংকুচিত আঞ্চলিক কাঠামোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে পুরো সড়কজুড়ে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসায় এই রুটটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে ঝালকাঠি অংশ ব্যবহার করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, মোংলা বন্দর, পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ অন্তত দশটি জেলার দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করছে। তবে সড়ক সরু থাকায় মুখোমুখি বা পাশ কাটানোর সময় দুটি মাঝারি আকারের যানবাহনও নিরাপদে অতিক্রম করতে পারে না। এর পাশাপাশি পুরো রুটজুড়ে ঘন ঘন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বিদ্যমান থাকায় সার্বক্ষণিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি লেগেই থাকছে।
সাম্প্রতিক নথিপত্র ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, এই সড়কে প্রাণহানি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিম আকন মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এর কিছুদিন পর, গত ৭ নভেম্বর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ইজিবাইকে যাওয়ার পথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান র্যাব সদস্য আনোয়ার আকন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় তাঁর একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে আইরিন গুরুতর আহত হন।
এছাড়া গত ৫ জুলাই নলছিটির রায়পুরের বটতলা এলাকায় মঠবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস বিপরীতমুখী অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় দুই গাড়ির মাঝখানে চলে আসা একটি ছোট যানবাহনকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় বাসের নিচে চাপা পড়ে যান বাহনটির সুপারভাইজার নিহত হন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে ঝালকাঠির এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অন্তত ১৫টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আনুমানিক ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের অভিযোগ, জাতীয় মহাসড়কের মর্যাদা দেওয়ার পর শুধু সাইনবোর্ড বদলালেও সড়ক প্রশস্ত করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, মহাসড়কটির বর্তমান সক্ষমতা ও যানবাহনের চাপ বিবেচনা করে চার লেনে উন্নীত করার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সড়ক সম্প্রসারণের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









