বিশ্বকাপের ফলাফল পুরো হিসেব-নিকাশ পাল্টে দেওয়ার পর এ বছর ব্যালন ডি’অর শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে তা নিয়ে সবার মনেই কৌতূহল রয়েছে। প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপের ফলাফল ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এ বছরের বিশ্বকাপজয়ী দলে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন রদ্রি—যিনি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে পুরো ক্লাব মৌসুমে নিয়মিত সেরা ফর্মে ছিলেন না।
অন্যদিকে, লা লিগা বিজয়ী বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করা লামিন ইয়ামাল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে তুলনামূলক কম প্রভাব রেখেছিলেন। দূরবর্তী বিবেচনায় হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিস, গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং অবশ্যই লিওনেল মেসির নামও এই আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও তারা সবাই রয়েছেন।
কয়েক মাস আগে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ব্যালন ডি’অরের প্রধান দাবিদারকে গাণিতিকভাবে খুঁজে বের করার একটি বিশেষ পদ্ধতি তৈরি করে নির্বাচকমণ্ডলীর কাজ অনেকটা সহজ করে দিয়েছেন। রেডিট ব্যবহারকারী Codaq3 একটি মডেল তৈরি করেছেন, যা বিভিন্ন পরিমাপক বা মেট্রিক্স বিবেচনায় নিয়ে ব্যালন ডি’অরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কে কতটা যোগ্য তার একটি মানদণ্ড প্রস্তুত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে: ‘এবারের ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য কে—তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি নিয়ে এসে তুলনা করতে চেয়েছি। বর্তমানে ফেভারিট হিসেবে থাকা ১২ জন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এবং অর্জনগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি।
ইনফোগ্রাফিক বা তথ্যে তাদের মোট গোল, অ্যাসিস্ট, সরাসরি গোল অবদান, ট্রফি, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের (Player of the Match) পুরস্কার এবং বড় ধরনের ব্যক্তিগত অর্জনগুলো তুলনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে শীর্ষ তিনজনকে যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও একটি সহজ ওয়েটেড মডেল (৪০% গোল+অ্যাসিস্ট, ২০% প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ, ২০% ট্রফি, ১২% সিজনের সেরা খেলোয়াড়/টুর্নামেন্ট সেরা পুরস্কার এবং ৮% গোল্ডেন বুট) ব্যবহার করে একটি সম্ভাব্য র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে।
পুরস্কার বিজয়ী নির্ধারণের জন্য এটি কোনো নিখুঁত বা চূড়ান্ত পদ্ধতি নয়। আমরা বুঝি যে সব লিগের মান সমান নয়, সব ট্রফির মূল্য এক নয় এবং প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্বও সমান নয়। কৌশলগত ভূমিকা, রক্ষণাত্মক অবদান কিংবা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পেছনের প্রেক্ষাপট এই মডেলে পুরোপুরি ধরা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও, শীর্ষ প্রার্থীদের একটি নির্দিষ্ট ভিত্তিতে তুলনা করার জন্য এটি একটি দরকারী ও চমৎকার ডেটাসেট।
এই র্যাঙ্কিং স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কিছুটা এগিয়ে রাখে, যা রদ্রি ছাড়া বাকি প্রায় সকল ফেভারিট খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই ব্যালন ডি’অর আলোচনায় রদ্রির আক্রমণের পারফরম্যান্স কিছুটা এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে, তবে তার সার্বিক প্রভাব এবং শীর্ষ প্রার্থীদের মধ্যে অবস্থানের কারণে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক মনে করেছি। তাছাড়া, এমএলএস (MLS) মৌসুমের ক্যালেন্ডার ভিন্ন হওয়ায় ইউরোপীয় মৌসুম শুরুর সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে মেসির পরিসংখ্যান রেকর্ড করা হয়েছে।
বিষয়টি আমাদের জন্য বেশ কাজের মনে হচ্ছে। তাহলে এই মডেল অনুযায়ী তালিকার শীর্ষে কে আছেন? র্যাঙ্কিংটি নিচে দেওয়া হলো:
হ্যারি কেইন – ৮০.০, লিওনেল মেসি – ৭৪.৮, মাইকেল ওলিস – ৬১.৫, আর্লিং হাল্যান্ড – ৬০.৮, লামিন ইয়ামাল – ৫৯.৯, উসমান দেম্বেলে – ৫৭.৬, কিলিয়ান এমবাপ্পে – ৫৬.৫, খভিচা কভারাতসখেলিয়া – ৫৬.৪, ব্রুনো ফার্নান্দেস – ৪১.৮, লুইস দিয়াজ – ৪১.০, ডেনিস উনদাভ – ৩৩.০, রদ্রি – ২৫.৮।
হ্যাঁ, এই মডেলে ডেনিস উনদাভকে রদ্রির ওপরে রাখা হয়েছে! তাকে কে আমন্ত্রণ জানাল? নিশ্চিতভাবেই ব্যালন ডি’অরের আসল ভোটাররা তো নন, কারণ উনদাভ ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই জায়গা পাননি। তারা যে বলেছিলেন এটি একদম নিখুঁত বা ভুলত্রুটিহীন নয়—তা মোটেই মিথ্যা ছিল না। এর মূল কারণ এই মডেলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাতিত্ব।
তবে তালিকার একেবারে শীর্ষে? আমাদের পাওয়ার র্যাঙ্কিং নিয়মিত অনুসরণ করে থাকলে নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, আমরাও কেইনকেই ব্যালন ডি’অরের যোগ্য মনে করি। তাই আমাদের ধারণার সপক্ষে এখন কিছুটা তথ্যভিত্তিক প্রমানও মিলল। তবে তিনি কি সত্যিই ট্রফিটি জিততে পারবেন? তার উত্তর মিলবে আগামী ২৬ অক্টোবরে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









