বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে শেষ করা সম্ভব না হলেও চেষ্টায় কমতি দিতে চান না জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার ওই পদে দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তিনি।
‘সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার মত সরল ব্যক্তি আমি নই। কিছু বিষয় আছে, যা সমাধান ছাড়া থেকে যাবে। কিছু বিষয় থাকবে, সেগুলোর সমাধান পেতে আমাদের সময় লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে, যেখানে আমরা পারি সেখানে সহাবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করব না। সেটা করার চেষ্টাই আমি অব্যাহতভাবে করে যাব।’
নিজের কাজের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা মনে করিয়ে দিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।’ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক এ সংস্থার সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও প্রথম ব্রিফিংয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘‘এখানে বলা হয়েছে আমরা জাতিসংঘের জনগণ, এটা বলেনি ‘আমরা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র’। তার মানে, এটি সংস্থার রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কিছু।‘‘ নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন অংশের মানুষকে জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আশাও দেখিয়েছেন তিনি। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জাতিসংঘে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, যেখানে তাদের প্রতিনিধিত্বই নেই?
উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসাবে তিনি পরিস্থিতি সরাসরি দেখেছেন। তাদের যন্ত্রণা ও বাড়ি ফেরার তাড়নাও প্রত্যক্ষ করেছেন। ওই সময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে ধরে খলিলুর বলেন, ‘এক লাখ মানুষ ইফতার করতে জড়ো হয়েছিল এবং প্রত্যেকেই বলেছে, তারা বাড়ি ফিরে যেতে চায়। নিজের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া বড় এই জনগোষ্ঠীর এটাই আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের জাতিসংঘে নিয়ে এসেছি। কণ্ঠস্বরকে জোরালো করেছি। আমাদের কার্যক্রমে সেটা অব্যাহত রাখব।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ
চার দশক পর সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসল বাংলাদেশের প্রতিনিধি। শপথ গ্রহণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চার দশক পর সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসল বাংলাদেশের প্রতিনিধি। পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি, জার্মানির আনালেনা বেয়ারবক নতুন সভাপতি খলিলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গত ২ জুন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। চল্লিশ বছর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। খলিলুর ওই সময়ে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ব্যক্তিগত সহযোগীর দায়িত্বে ছিলেন।
আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পরবর্তী সেশনের সভাপতি পেয়েছে সাধারণ পরিষদ। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা ফেরে।
এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রার্থী পরিবর্তনের পর তিন মাসের প্রচারেই সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ। খলিল ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কাজ করেছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









