রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আজ শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এদিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১২ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে বিশেষ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মহানগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) সমন্বয় করবেন। আর উপজেলা পর্যায়ে পুরো কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে স্কাউটস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার এসব শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকায় এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় একজন করে মারা রোগী মারা যান। মৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। এদিকে একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হন ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকায়। এ বিভাগে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৯ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মোট ৪৯ হাজার ২২০ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ১৪১ জনের। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ফিরে গেছেন ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ৪৩৪ জন। চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর হিসাবে নারীদের হার বেশি। মোট মৃত রোগীদের মধ্যে নারীর হার ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।
হাম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের। তাদের একজন চট্টগ্রামের এবং অন্যজন নোয়াখালীর। অপর শিশুটির মৃত্যু হয় ঢাকায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে।
এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৬৭ জন। এছাড়া হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









