ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটকে আবারও আগের নামফলক ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামফলক সরিয়ে সেখানে 'শেখ মুজিবুর রহমান হল' লেখা নামফলক স্থাপন করা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটক থেকে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামটি সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে হলটির নাম পরিবর্তন করার দাবি উঠলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে হলের প্রধান ফটকে আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, "গত সিনেটে স্থাপনাগুলোর নাম আগের মত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেটাই করা হচ্ছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, "আমি শুনেছি বিষয়টা, তবে প্রক্টর অফিসকে হল প্রশাসন থেকে জানানো হয়নি। আমি প্রক্টরিয়াল টিমকে পাঠিয়েছি বিষয়টা অবজারভ করতে। হল প্রশাসন হয়তো নিজ উদ্যোগে করতে পারে।"
তবে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শহীদ ওসমান হাদি নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান বলেন, আমরা শেখ মুজিবের নাম পরিবর্তনের পক্ষে। ঢাবিতে কোনো ফ্যাসিস্টের নাম থাকুক তা আমরা চাই না। ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নামটি লেখার ব্যবস্থা করেছিলাম। পরে ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি তৎকালীন উপাচার্যের কাছে দেওয়া হলে বিষয়টি সিনেট সভায়ও উত্থাপিত হয় এবং বর্তমানে অধিকতর বিবেচনার জন্য সিন্ডিকেটে রয়েছে।
এ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব সিহাব হোসেন শাহেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিধি ও অফিসিয়াল প্রক্রিয়া মেনে হল প্রশাসনের মাধ্যমে মূল গেটে পুনরায় হলটির অফিসিয়াল নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ স্থান পাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান হবে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদল কখনো মবোক্রেসি কিংবা সাময়িক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে বিশ্বাস করি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোনো হল থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মূল স্লোগান ছিল ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। ফ্যাসিবাদের আইকন শেখ মুজিবের সব মূর্তি ও ম্যুরাল ছাত্র-জনতা ঘৃণাভরে অপসারণ করেছে।
ইতিহাসে শেখ মুজিবের স্থান বাকশালি ও ফ্যাসিস্ট হিসেবেই নির্ধারিত হয়েছে। আবার কেউ ফ্যাসিবাদের জায়গায় ফিরে যেতে চাইলে তার পরিণতিও সুখকর হবে না। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলকটি সরিয়ে আগের নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখাসংবলিত নামফলকটিই পুনরায় স্থাপন করার প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’নামকরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে এটি করা হয়েছিল।
হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনীম জুমা। তিনি বলেন, ওসমান হাদির নামে হলটির নামকরণ কিংবা পরবর্তীতে তা মুছে আগের নামে ফিরে যাওয়া, কোনোটিই আমাদের সিদ্ধান্তে হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল নতুন ঘোষিত চারটি হলের যে কোনো একটি শহীদ হাদির নামে করা। তাহলে এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির অবতারণা হতো না।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আততায়ীদের গুলিতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হলের প্রধান ফটকের পুরোনো নামফলক সরিয়ে সেখানে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নাম লিখে দেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ব্যবহার করে হলের নামফলক পরিবর্তনের কাজ করা হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে 'শহীদ ওসমান হাদি হল'
করার সুপারিশ করা হয়। একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এসব সুপারিশ সিন্ডিকেট অনুমোদন না দিয়ে, ফের সিনেটে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠায়। তবে গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন না দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









