বিশ্বে যত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই নানা নাটকীয়তা, কেলেঙ্কারি, মামলা এবং জনসমক্ষে চরম অস্বস্তিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। যেমন- মিস ইউনিভার্সের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া, কোনো সুন্দরীর গ্রেফতার হওয়া, কোনো মিস ইউনিভার্স পরবর্তীতে মুটিয়ে যাওয়ার কারণে তার খেতাব যায় যায়, পোল ড্যান্স করার কারণে কোনো সুন্দরীর পরবর্তী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়, বয়স বেশি হওয়ায় কোনো সুন্দরীর মুকুট হারানো, কোনো মিস ইউনিভার্স গর্ভধারণ করায় তার খেতাব চলে যায়, আবার কোনো সুন্দরীকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফিক্মিংয়ের মামলায় হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়-ইত্যাদি।
মিস ইউনিভার্সের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া
২০২৩ সালের প্রতিযোগিতার ফাইনালের ঠিক আগেই মিস ইউনিভার্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ধসের খবর প্রকাশিত হয়। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মালিক মিডিয়া ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি 'জেকেইন গ্লোবাল গ্রুপ' দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করে। থাই এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে মিস ইউনিভার্স সংস্থাটি কিনেছিল। জানা যায়, তারল্য সংকটের কারণে সেপ্টেম্বরে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় জেকেইন।
মিস কেন্টাকির কারাদণ্ড
২০১৪ সালে মিস কেন্টাকি খেতাব জেতার পর রামসে বিয়ার্স (বিবাহপূর্ব কার্পেন্টার) পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একজন শিক্ষিকা হন। তবে তার সুনাম বেশিদিন টেকেনি, কারণ একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছে অশ্লীল সামগ্রী বিতরণ বা প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে চারটি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। ১৫ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রকে স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে তিন মাস ধরে নিজের অন্তত চারটি নগ্ন ছবি পাঠানোর অপরাধে বিয়ার্স গ্রেফতার হন।
ওজন কমাতে হবে, নয়তো বিদায়
আলিসিয়া মাচাদো ১৯৯৬ সালে মিস ইউনিভার্স জিতেন এবং এই নতুন জনপ্রিয়তার আলোয় আসার পর, প্রতিযোগিতার পরপরই তার ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি সবার নজরে আসে। বিউটি পেজেন্টের কর্মকর্তারা হুমকি দেন যে, ওজন না কমালে তার খেতাব কেড়ে নেওয়া হবে। মিস ইউনিভার্সের প্রাক্তন মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্প 'দ্য হাওয়ার্ড স্টার্ন শো'-তে সরাসরি লাইভে মাচাদোকে ‘ইটিং মেশিন’ বলে ডেকে বিষয়টি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেন। তবে মাচাদো ওজন কমিয়েছিলেন এবং তার খেতাব ধরে রেখেছিলেন।
মডেল, বিউটি কুইন, নাকি মাদক পাচারকারী?
২০০৮ সালের মিস হিস্পানিক আমেরিকা বিজয়ী লরা জুনিগা খুব জলদিই অন্যদের সাথে র্যাকেটিয়ারিং (বেআইনি ব্যবসা), মাদক পাচার, অস্ত্রের অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হন, যখন মেক্সিকান পুলিশ তাকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ আটক করে। তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি কেবল কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন। তবুও তাকে ৪০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত মামলাটি স্থগিত হয়ে যায়।
প্রায় নগ্ন হতে পারবেন, কিন্তু পোল ড্যান্স করতে পারবেন না
রিমা ফাকিহ ২০১০ সালে মিস ইউএসএ জিতেন, যেখানে তাকে একটি ক্ষুদ্র বিকিনি পরে ক্যাটওয়াক করতে হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে একটি রেডিও প্রতিযোগিতার সময় পোশাক পরা অবস্থায় পোল ড্যান্স করার ছবি প্রকাশ্যে এলে হঠাৎ করেই সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফাকিহ তার খেতাব ধরে রাখলেও এই বিতর্ক পরবর্তী মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় তার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বয়স বেশি হওয়ায় মুকুট হারানো
মিস ডেলাওয়্যার ২০১৪ বিজয়ী হওয়ার দুই সপ্তাহ পর তার খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়, যখন পেজেন্টের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে আসন্ন মিস আমেরিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তার বয়স অনেক বেশি। তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তিনি মুকুট বা স্কলারশিপ কিছুই রাখতে পারবেন না। আমান্ডা লংএকার উভয় পেজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং দাবি করেন যে, বিজয়ীদের অযোগ্য ঘোষণা করার এই কাজট মূলত তহবিল সংগ্রহ ও প্রচারণার একটি কৌশল। 'ডেলাওয়্যার অনলাইন'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অবশেষে তিনি তার স্কলারশিপের টাকা ফেরত পেয়েছিলেন।
হার মানতে হলো ট্রাম্পের কাছে
মিস পেনসিলভানিয়া ২০১২ সালের মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতা থেকে পদত্যাগ করেন এবং ট্রাম্প ও অন্যান্য আয়োজকদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতাটি পাতানো বা ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলেন। প্রতিযোগিতাটি কতটা প্রতারণামূলক তা নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা প্রচার করতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হন। দুর্ভাগ্যবশত, মনিন পেজেন্টের সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল তিনি এর মানহানি করবেন না; ফলে তাকে ট্রাম্পকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি তার নিজের আইনজীবীর বিরুদ্ধেও মামলা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই মামলাতেও তিনি হেরে যান।
ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি পক্ষপাতিত্ব
প্রকাশ্যে সমকামী এমসি পেরেজ হিলটন ২০০৯ সালের মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় মিস ক্যালিফোর্নিয়াকে সমকামী বিয়ে সম্পর্কে তার মতামত জিজ্ঞাসা করেন। প্রিজিন উত্তর দেন যে তিনি পুরুষ ও নারীর মধ্যে ‘বিপরীত বিয়েতে’ বিশ্বাস করেন। তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং তার হারের জন্য তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি পক্ষপাতিত্বকে দায়ী করেন। তবে তার টপলেস ছবি প্রকাশ্যে আসার পর এই যুক্তি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়। (অসমাপ্ত)


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









