ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়া এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চল অশান্ত হয়ে ওঠেছে। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে গতকাল রোববার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে এসে অবরোধ তৈরি করেন। এ সময় ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, লাঠিপেটা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৫ শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অসন্তোষের মধ্যে মিরপুরে ২৯ জন এবং গাজীপুরে ২০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দুপুরে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানান ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান। পরে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ আরও ১৭ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন এ বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার। বিকালে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ থেকে সব শেষ তথ্যে বলা হয়, সারা দিনে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের স্থানে স্থানে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা সকাল থেকে রাস্তায় ছিল। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। দুপুরের দিকে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এসব এলাকা। উত্তেজিত শ্রমিকরা আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ জানায়, আন্দোলনের একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা রোববার বিকাল ৩টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া বিকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিক মিলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন। এ কারণে ওই পথে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর ১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়ক ও রেল—দুই পথেই যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
এদিকে আন্দোলনের মধ্যে রবিবার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
শ্রমিক অসন্তোষে ৫২৯ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) গতকাল রোববারের তথ্য অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে খোলা ছিল ১ হাজার ৮১৬টি।
বিজিএমইএর তথ্য বলছে, ডিএমপি এলাকার মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি কারখানার শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। এ এলাকায় এমন শ্রমিকের সংখ্যা ৫১ হাজার ৬২৫ জন। গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২৭৬টির শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। এ দুই এলাকায় এ সংখ্যা ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ১৮৫টির শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান।
এ এলাকায় এমন শ্রমিকের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ জন। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ১৯৭টি এবং চট্টগ্রাম এলাকায় ৩৪০টি কারখানার তথ্যও দিয়েছে বিজিএমইএ। তবে এসব এলাকায় কাজ না করে বেরিয়ে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বিজিএমইএর সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ ছিল ৫২৯টি। খোলা ছিল ১ হাজার ৮১৬টি। কাজ না করে বেরিয়ে যাওয়া শ্রমিকের মোট সংখ্যা ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন।
মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন; বন্ধ তিন মেট্রোস্টেশন
রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকেই পোশাকশ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৪ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ছিলেন। সকাল থেকে চলা অবরোধ সরাতে পুলিশ উদ্যোগ নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্টেশনগুলো আবার চালু করা হয়। বিকালের দিকে সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন ও ভাঙচুর
গাজীপুরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে ও কাঠ ফেলে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তখন পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি ব্যাংকে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মণ্ডল গ্রুপের একটি কারখানায় দুপুরের দিকে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
অন্যদিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে। পরে বিজিবির পাহারায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গাজীপুরে অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাঙচুরের খবর জানিয়েছে থানা-পুলিশ। প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আশুলিয়া-সাভারে শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় ছুটি
সাভারের আশুলিয়াতেও গতকাল সকালে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও নিউ এজসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে অন্য কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে- শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে অন্তত ৫০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এ খাতে প্রায় ৩৭৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেছেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে আছে। শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা করছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখেছেন।
শ্রমিক আন্দোলনে ক্ষতি ৩৭৩ কোটি টাকা
রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্র মিকদের আন্দোলনের মুখে অন্তত ৫০০টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে এক দিনে প্রায় ৩৭৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ)। গতকাল রোববার বিজিএমইএ’র সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম জানিয়েছেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঢাকা এবং এর পাশের এলাকার প্রায় ৫০০ কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে।
আন্দোলনে সহিংসতার নেপথ্যে আওয়ামী লীগ
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনায় নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দাবি, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশে কিংবা আন্দোলনকারীদের আড়ালে থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে রবিবার মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রোরেল স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









