স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাড়তি তিন বছরকে শুধু সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং এ সময়কে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগাতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
দেবপ্রিয় বলেন, এ সময়ের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে চিঠি দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায় এখন সরাসরি সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বর্তেছে। আগে যে কোনো সময় এটা হয়তো আমলা, মন্ত্রী ইত্যাদির পর্যায়ে ছিল, এখন এটা সরকারের সামগ্রিকতায় রাজনৈতিক দায়দায়িত্বের ভিতরে চলে এসেছে।
‘উনারা (জাতিসংঘ) এটাকে সেভাবেই কিন্তু বিবেচনা করে নিয়েছেন, কারণ প্রধানমন্ত্রী চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী চিঠি লিখেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে, সেহেতু প্রধানমন্ত্রী এই দায়িত্বটা নিয়েছেন যে উনি এই তিন বছরের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের রেখা পার হবেন।’
দেবপ্রিয় বলেন, ‘এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন। এটা যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন রকম কিন্তু। এটা আর কোনো কারিগরি বিষয় বলে বিবেচিত না। কারিগরি বিষয় আছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় আছে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি এটা এখন একটা রাজনৈতিক মালিকানার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’
রবিবার রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ ও সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন সিপিডিন সম্মাননীয় ফেলো। গত ২৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল।
দেবপ্রিয় বলেন, সিদ্ধান্তটিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর মূল মাপকাঠি করা হয়নি। তবে দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সেহেতু আপনাদের আমি আজকে মূল কথা যেটা বলতে চাই, সেটা হলো এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মালিকানা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।’
এ সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘শর্তসাপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেবপ্রিয় বলেন, দেশের পক্ষ থেকে সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, তার ওপর আস্থা রেখেই জাতিসংঘ অতিরিক্ত সময় দিয়েছে। সেহেতু ওই সংস্কারের বিষয়টিই সবচেয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। যদি সংস্কার আপনি না করেন, তাহলে কিন্তু আপনার কথার বরখেলাপ হবে। তাহলে কিন্তু দেশ হিসেবে আমাদের যে বিশ্বাসযোগ্যতা, সেটাতে আঘাত আসবে—এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।’
'গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন’ মানতে নারাজ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সিদ্ধান্তটিকে বাংলাদেশের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয় সেখানে।
তবে দেবপ্রিয় মনে করেন, ওই বক্তব্যে সিদ্ধান্তটির ব্যতিক্রমী চরিত্র এবং এর সঙ্গে যুক্ত শর্তগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, আমার প্রথম বিষয় হলো, যে কথাগুলো বলছি, এটা কি সরকার অনুধাবন করল? যে কথাগুলো আমরা বলছি যে, আপনি প্রতিশ্রুতি দিতে খুবই পারদর্শী, কিন্তু বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে অত দক্ষতা দেখাতে পারেন না। এটার প্রথম আমরা ইঙ্গিত কোথায় পেলাম? আমরা প্রথম ইঙ্গিত পেলাম সরকারের প্রেস নোটে।
‘দেখেন, সরকারের প্রেস নোট কি বলল? উনার প্রেস নোট বলল—সার্বিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত পেয়ে গেছি এবং এটা নভেম্বর ২৯ সাল পর্যন্ত সময় আমাদের দেওয়া হয়েছে। উনারা একবারও উল্লেখ করল না যে এটা একটি ‘ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে ওখানে এসেছে।’
দেবপ্রিয়র মতে, সিদ্ধান্তটিকে কেবল সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করাও যথাযথ নয়। বরং বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে বিষয়টিকে দেখা উচিত। অথচ ঘটনাটা তো হল এই, যে বাংলাদেশের পক্ষে যে একটা বৈশ্বিক সদিচ্ছা, সেটার প্রকাশ পেয়েছে। আপনি যদি—আপনি মনে করেন যদি বৈশ্বিক সদিচ্ছা না থাকত, তাহলে আপনি যতই দেনদরবার করেন না কেন, এটা তো আপনি পেতেন না।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে কোনো দেশের প্রতিনিধি বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন দেবপ্রিয়। পাশাপাশি ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সমর্থনের কথাও বলেন। আয়ারল্যান্ড জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালও যে একই সুবিধা পেয়েছে, সে কথা তুলে ধরে দেবপ্রিয় বলেন, সিদ্ধান্তটিকে এককভাবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ নেই।
‘আমাদের কাছে প্রথমত মনে হচ্ছে প্রেস নোটের ভেতরে এই পুরো ঘটনাটার তাৎপর্য অনুধাবন করা, আত্মস্থ করা এবং এটাকে প্রকাশ করা—এই ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হয়।’
কী শর্ত জুড়েছে জাতিসংঘ?
অতিরিক্ত তিন বছরে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয়। এগুলো হল—এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। একটা হচ্ছে যে আমাদের এইটার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই উত্তরণের জন্য, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার।
‘একই সাথে আমার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। এবং সেটার জন্য আমার কর আদায় বাড়াতে হবে, আমার সরকারি ব্যয়ের গুণমান বাড়াতে হবে, ব্যাংকিং খাত ঠিক করতে হবে, জ্বালানি ঠিক করতে হবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময়মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সুদের হার কমানোর মতো বিষয়েও নজর দিতে হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয়।
তিনি বলেন, একদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে হবে, অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সেই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সেহেতু এইটার জন্য আমার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, সুদের হার কমাতে হবে এবং সেটা করতে গিয়ে আমি স্থিতায়নকে নষ্ট করতে পারব না। দেখেন, তিনটে জিনিস কিন্তু একসাথে আসছে। এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সহজ হবে না। আগামী তিন বছরে সরকার কতটা সংস্কার করতে পারল এবং অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা সফল হলো, তা পরবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদের মধ্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এলডিসি উত্তরণ টেকসই করতে পাঁচ পক্ষকে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করবে সরকার।
এদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাড়তি তিন বছরকে শুধু সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং এ সময়কে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগাতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গতকাল সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘গ্র্যাজুয়েশন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। তবে এ রূপান্তর হতে হবে টেকসই। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, সরকার এ সময়কে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।
সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তিতুমীর বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা কম্প্যাক্ট গড়ে তুলতে পারলে এসব লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এলডিসি উত্তরণ নিয়ে প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলেরও অংশ।
সরকারের এ উদ্যোগে পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এগুলো হলো বাংলাদেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। তাঁর মতে, এ ধরনের সর্বসম্মত অংশীদারত্ব আগে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক। সরকারের চিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)।
তিতুমীর বলেন, আইএমএফের চলমান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে এসব সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অতীতে কোনো সংস্কার কার্যক্রমে দেশের মানুষকে এভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। পাঁচ পক্ষের অংশগ্রহণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা বাড়াবে বলে তিনি মনে করেন।
টেকসই শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিতুমীর। এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
উল্লেখ্য, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্যে বাড়তি তিন বছর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করেছে। এ সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। ফলে সময়টি শুধু এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









