ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা ও সংঘাত। রাজধানী ঢাকাসহ গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হয়েছে বিজিবি।
সরকার ইতোমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও থামেনি আন্দোলন। এর নেপথ্যে সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী ও কতিপয় শিল্পমালিকের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ও উসকানি কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতকে রক্ষায় জাড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শুরুতে বিক্ষোভ সড়ক অবরোধে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে তা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। পুড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষে জড়িয়েছেন শ্রমিকরা। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের অসহিষ্ণুতা ও মারমুখী হয়ে উঠার পেছনে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস মিলেছে সরকারের পক্ষ থেকে। বিরোধী দলও এমনটিই চাইছে।
গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে ঢাকার মিরপুরে মিছিল নিয়ে সড়কে নামার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার শেল) ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ ও মিছিলের চেষ্টাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সোমবার সকাল ৭টা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক এবং গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কারখানার কাজে যোগ না দিয়ে মহাসড়কে নেমে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাঠ, বাঁশ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ তৈরি করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে ১০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাবে গাজীপুরের রতনপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা রক্ষায় সোমবারে দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিল্প পুলিশের হিসাবে আগে রোববার ১০০টি কারখানায় এবং বিজিএমইএর হিসাবে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ৫২৯টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পয়েন্টে রায়ট কারসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠে নামেন।
এদিন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। নাওজোর এলাকায় 'সময় টিভি'র প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং একাধিক সাংবাদিককে মারধর করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ও উসকানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিরপুরে পুলিশের ধাওয়া, টিয়ার শেল নিক্ষেপ
সকালে মিরপুরেও সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। তবে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এদিন সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সকালে শ্রমিকরা সড়কে মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যেতে চাইলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশকে কয়েকটি টিয়ার শেল মারতেও দেখা যায়। পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পুলিশের বাধার মুখে সড়ক থেকে সড়ে গেলেও থেমে থেমে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছে। দুপুর একটার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনের এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার পদ্মার মোড়সহ আশেপাশের এলাকায়। সেখানেও আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই মুহুর্তে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে কাভার্ড ভ্যানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকেরা।
পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়কসংলগ্ন অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এসময় লিংক রোডের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। সড়কে আগুন জ্বেলে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল আটকে রাখেন তারা। এরপর দুপুরে শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল এলাকার ছোট বড় ২০ টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রথমে শিবু মার্কেট অবরোধ করলেও পরে তারা মিছিল নিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে অগ্রসর হয়। এসময় ভুইগড়ের কাছাকাছি এসবি গার্মেন্টস থেকে শ্রমিক নামিয়ে আনতে যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
কারখানা কর্তৃপক্ষ আপত্তি করলে কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছুটি দেওয়া হয় কারখানাটি। এদিকে, সড়কে যান চলাচলে বাধা দিলেও কোনো গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহ করতে দেখলেই আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। বেলা আড়াইটার দিকে ভুইগড় মোড়ে শক্ত অবস্থান নেয় পুলিশ ও বিজিবি। শ্রমিকরা মুখোমুখি হতেই তীব্র বৃষ্টিতে উভয়পক্ষই সড়ক ছেড়ে দেয়। বেলা ৩টা নাগাদ বৃষ্টি থামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ৩টা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি আধাঘণ্টার মধ্যে যানজট মুক্ত হয়ে রাস্তার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শিল্প মালিকের সম্পৃক্ততার তথ্য, তালিকা চেয়েছে সরকার
গার্মেন্টস খাতে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতা উসকে দেয়ার পেছনে কিছু শিল্প মালিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে সরকার। তাদের কেউ আগে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করা মালিকদের তালিকা তৈরি করে সরকারকে দেয়ার জন্য তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের তালিকাও চেয়েছে সরকার। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল সোমবার সকালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, কিছু শিল্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কয়েকজন শিল্প মালিক অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কাজ করছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে এবং তা প্রমাণিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কিছু শিল্প মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের মালিকদের তালিকা সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু শ্রমিক নেতা ও সংগঠন অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তাদের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলে সরকার বিশ্বাস করে। প্রকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইবেন না। রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে পতিত স্বৈরাচারের সমর্থক কিছু পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার ভাষ্য, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার মাধ্যমে শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শিল্প খাতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মালিক সংগঠনগুলোও তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেছে।
সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতির তথ্য আদান-প্রদান এবং ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। কারখানার সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয় জড়িত। আর্থিক সংকট কিংবা রফতানি আদেশ কমে যাওয়ার কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু অস্থিরতা সৃষ্টির কারণে কারখানা বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান বজায় রাখা এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। গতকাল বিকাল ৩টায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর
ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের অসহিষ্ণুতা ও মারমুখী হয়ে উঠার পেছনে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস মিলেছে সরকারের পক্ষ থেকে। বিরোধী দলও এমনটিই চাইছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, আন্দোলনের আড়ালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেছেন, সম্প্রতি যানবাহনে আগুন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সিংহভাগই পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির দোসর।
শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীও মনে করছে, শ্রমিকদের বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্র নস্যাতে দলটি সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ৬৯০ পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কাজে যোগদানে অস্বীকৃতি এবং মালিকদের ওপর হামলার আশঙ্কায় গতকাল সোমবার দেশের অন্তত ৬৯০টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশের পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের দুটি প্রধান সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ হওয়া এসব কারখানায় ১৭ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংগঠনটির ৬৭০টি সদস্য কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। এসব কারখানায় প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
দেশি-বিদেশি চক্রান্তের অভিযোগ পুলিশের, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন এবং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, সরকার ইতোমধ্যে শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করলেও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কে পুলিশের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
একইসঙ্গে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও চলমান আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের দাবিও করা হয়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার বিকালে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় অবস্থিত আল মুসলিম গ্রুপের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং সহিংসতার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, 'আপনারা জানেন যে গতকালকে সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং মজুরি বোর্ড তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।'
তিনি শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।' মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিআইজি বলেন, 'তাদের উদ্দেশ্য তো ভিন্ন। শ্রম সেক্টরের কল্যাণ তাদের উদ্দেশ্য না। তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু। কোনোমতেই তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যা যা দরকার, পুলিশ সবকিছুই করবে।'
এসময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী ব্যক্তি এবং তাদের ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'পুলিশের কাছে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যারাই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ কিংবা ছাত্রলীগের কেউ রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি জানান, 'গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।' তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কাজে ফিরতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের নিরাপত্তার আশ্বাস
অন্যদিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে চাইলেও বাইরের কিছু ব্যক্তি তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার শ্রমিকদের কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা আপনারা কোনে ধরনের কুচক্রী মহলের ফাদে পা দিবেন না। যারা উস্কানি দিচ্ছে, সেই উস্কানিদাতাদের ফাদেও পা দিবেন না। কারণ এটাই আপনাদের রুটি-রুজি। আপনারা কর্মে ফিরে আসুন, কাজ করুন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।'
শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল সৃষ্টির বড় পরিকল্পনা ছিল
চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছিল উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, 'শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও বড় পরিকল্পনা ছিল। তবে আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তিনি বলেন, 'সাভার, আশুলিয়া, ইপিজেড ও হেমায়েতপুর এলাকায় অনেক পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। অতীতে যেভাবে শিল্পকারখানায় ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, এবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে সে ধরনের পরিস্থিতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।'
৪ মামলায় আসামি ১০ হাজার, কারাগারে ২৬
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুদিনের শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে। সোমবার দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানার ওসি এসব তথ্য জানিয়েছেন। ‘শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে’, জানালেন ওসি।
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবির আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পল্লবী থানার পৃথক দুই মামলায় ২০ জন ও মিরপুর মডেল থানার এক মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন ও আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন তিন মামলায় ২৬ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পল্লবী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৩ জনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক মো. রাশেদুল ইসলাম কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পল্লবী থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাতজনকেও কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিয়াকত হোসেন। এ ছাড়া মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা আরও ছয়জনকে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আজিম আহমেদ। পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— অলিউল্লাহ অনিক, মো. কামাল গাজী, আলিফ হোসেন ইমন, রমজান সরকার, মো. মহিম মোল্লা, জুবায়ের ইসলাম জিসান, মো. আরিফ আকন্দ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ, মো. আরিফ, মো. নাহিদ হাসান, মাহবুব রহমান জুয়েল, শামীম, মো. সুমন গাজী, মো. ইউসুফ আলী, রবিন চন্দ্র দাস, মো. জামাল সরকার, মো. তারেক হোসেন, মো. ইমরান হোসেন, মো. আব্দুল কাসেম, মো. নঈম উদ্দিন, কাওসার আহমেদ, মো. রফিক গাজী, মো. ইসমাইল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব শেখ ও মো. খোরশেদ আলম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









